বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে যত কৌতুহল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে যত কৌতুহল

ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ফিফা নিশ্চিত করেছে, আল জাজিরা জানিয়েছে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসরের সেমিফাইনালের মঞ্চে যথাক্রমে স্পেন ও আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হওয়ার পর ইউরোপের এই দুই পরাশক্তি ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বর্তমানে এই ম্যাচটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রোঞ্জ ফাইনাল নামে অভিহিত করছে। যদিও সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর অনেক খেলোয়াড় এবং সমর্থকই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত দেশে ফিরে যেতে চান, তবে ফুটবল বিশ্বের এই বৃহত্তম মঞ্চে তৃতীয় স্থান অর্জন করাকে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও প্রকৃত সাফল্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

পরাজয়ের গ্লানি ভুলে এই টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে অংশ নেওয়ার পেছনে দলগুলোর ফুটবলীয় গৌরবের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণ জড়িত রয়েছে। ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং আয়োজক শহর মায়ামির জন্য এই অতিরিক্ত ম্যাচটি টিকিট বিক্রি ও পর্যটন খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব উপার্জনের একটি বড় বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি করে। এর পাশাপাশি বৈশ্বিক টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেমিফাইনাল এবং মূল ফাইনালের মধ্যকার সময়ের একটি বড় শূন্যতা পূরণের জন্য এই ম্যাচটিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে থাকে। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনানুষ্ঠানিক ম্যাচটিতে দলগুলো কোনো মনস্তাত্ত্বিক চাপ ছাড়া মাঠে নামে বলে সাধারণত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা এবং প্রচুর গোল দেখতে পাওয়া যায়।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সুদীর্ঘ ইতিহাসে এই ব্রোঞ্জ ফাইনাল বা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি প্রথম চালু হয়েছিল ১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপে। সেই ঐতিহাসিক আসরে অস্ট্রিয়াকে ৩-২ গোালের ব্যবধানে পরাজিত করে জার্মানি বিশ্বমঞ্চে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৃতীয় স্থান অর্জন করার গৌরব লাভ করেছিল। এরপর ১৯৩৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপেও এই নিয়ম ধরে রাখা হয়েছিল কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী ১৯৫০ সালের ব্রাজিলের আসরে এই ম্যাচটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে এটি পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে চালু করা হয় এবং এরপর থেকে আজ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিটি আসরেই এই ধারা অত্যন্ত সফলভাবে অব্যাহত রয়েছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই ম্যাচের পারফরম্যান্স চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জয়ের লড়াইয়ে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে। ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে বর্তমানে আটটি গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে শীর্ষ স্থানে অবস্থান করছেন। যেহেতু মেসি রবিবারের মূল ফাইনালে শক্তিশালী স্পেনের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন, তাই এমবাপ্পের জন্য নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে এককভাবে এই পুরস্কার নিজের নামে করার এটাই শেষ সুযোগ। স্পেনের বিরুদ্ধে প্রথম সেমিফাইনালে ০-২ গোলে হারের পর ফরাসি শিবিরে যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছিল, এই ম্যাচের মাধ্যমে তারা তা কাটিয়ে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড দলও তাদের প্রধান কোচ থমাস টুখেলের অধীনে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হারের বেদনা ভুলে একটি ব্রোঞ্জ পদক নিয়ে ঘরে ফিরতে মরিয়া হয়ে আছে।

পবিত্র কুরআনে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি ও বিপর্যয়ের সময় মানুষকে ধৈর্য ধারণ করার এবং নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৫)। দুই দলের ম্যানেজারই এই ম্যাচে তাদের মূল একাদশের কিছু নিয়মিত খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে সাইড বেঞ্চের তরুণ ফুটবলারদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে এই দুই দলের দ্বৈরথ দর্শকদের জন্য একটি চমৎকার বিনোদন উপহার দেবে বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ আসর শেষ হওয়ার আগে এই দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির লড়াই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আরও একটি রোমাঞ্চকর অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে।

banner
Link copied!