বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা প্রাদুর্ভাব নিয়ে সিডিসির তদন্ত

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে সাইক্লোস্পোরা প্রাদুর্ভাব নিয়ে সিডিসির তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে বিষাক্ত সাইক্লোস্পোরা পরজীবীর সংক্রমণে ১,৬৪৫ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে একটি জরুরি তদন্ত শুরু করেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা জানিয়েছে। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অভ্যন্তরীণ সংক্রমণে এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার একশরও বেশি অতিরিক্ত রিপোর্টের সত্যতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন যে আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত এই মারাত্মক সংক্রমণের প্রকোপ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও এই রোগটি সাধারণত মানুষের জীবনের জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ নয়, তবুও এটি দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বা পেটের নানাবিধ জটিল উপসর্গ তৈরি করতে পারে যা নিরাময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন হয়।

সাইক্লোস্পোরা হলো একটি অতি ক্ষুদ্র পরজীবী যা খালি চোখে দেখা যায় না এবং এটি মানবদেহের অন্ত্রে আক্রমণ করে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামক রোগ সৃষ্টি করে। অন্যান্য সাধারণ খাদ্যবাহিত রোগের মতো এই পরজীবীটি সরাসরি একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে না। মানবদেহ থেকে মলত্যাগের মাধ্যমে নির্গত হওয়ার পর এই পরজীবীটির পরিবেশে বংশবৃদ্ধি করতে এবং অন্য কাউকে সংক্রমিত করার উপযোগী হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে বিগত এক দশকে এই ধরণের পরজীবীর প্রাদুর্ভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মূল কারণ হলো উন্নত পরীক্ষা পদ্ধতি এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উষ্ণ আবহাওয়া।

ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এফডিএ বর্তমানে এই দূষণের মূল উৎস চিহ্নিত করার জন্য তাজা উৎপাদিত পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল খতিয়ে দেখছে। মিশিগানের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে লেটুস পাতাকে এই প্রাদুর্ভাবের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করলেও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো খামার বা সরবরাহকারীকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা সম্ভব হয়নি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিখ্যাত ফাস্টফুড চেইন টাকো বেল তাদের কিছু আউটলেটের মেনু থেকে লেটুস পাতা, ধনেপাতা এবং গুয়াকামোল সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে। চিকিৎসকেরা কাঁচা খাওয়া হয় এমন ফলমূল ও শাকসবজি বাড়িতে এনে অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ধৌত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো একক কৃষি অঞ্চল জড়িত নাকি এটি আমদানিকৃত পণ্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে কর্মকর্তারা জানার চেষ্টা করছেন যে অসুস্থ হওয়ার আগে তারা ঠিক কী ধরণের খাবার গ্রহণ করেছিলেন। সাধারণত শাকসবজি সেচের পানি বা ধোয়ার পানির মাধ্যমে এই ধরণের পরজীবী মানুষের খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে থাকে। সিডিসি জানিয়েছে যে এই সংক্রমণের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা, ক্ষুধা হ্রাস, ওজন কমে যাওয়া, পেটে তীব্র মোচড় দেওয়া, গ্যাস এবং চরম ক্লান্তি ভাব।

আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে এই সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। চিকিৎসকদের মতে এই রোগের লক্ষণগুলো সাধারণত দূষিত খাদ্য গ্রহণের এক সপ্তাহ পর প্রকাশ পায় তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি দুই দিন থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেও দেখা হতে পারে। যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা না হয় তবে এই অস্বস্তিকর উপসর্গগুলো কয়েক সপ্তাহ বা মাসব্যাপী স্থায়ী হতে পারে যা রোগীর কর্মক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। মার্কিন সরকার এই সংকট মোকাবেলায় তাদের কেন্দ্রীয় গবেষণাগারগুলোকে সচল রেখেছে এবং নতুন আক্রান্তদের delicacies ওপর নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী এই ধরণের পরজীবী সংক্রমণ রোধে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ পানির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। দেশের জনস্বাস্থ্য বিভাগ গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে যেন মলমূত্রের কোনো উপাদান বিশুদ্ধ পানিতে মিশতে না পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেকেই জানিয়েছেন যে তারা বিভিন্ন সুপারমার্কেট থেকে প্যাকেটজাত সালাদ মিক্স কিনেছিলেন যা এই প্রাদুর্ভাবকে আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এফডিএ নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।

banner
Link copied!