বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভারতে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড় সাইবার হামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম

ভারতে কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড় সাইবার হামলা

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র একটি ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হয়েছে এবং এর সংবেদনশীল নথি ইন্টারনেটে ফাঁস হয়েছে বলে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। ২০籍২৬ সালের ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয় যে ওয়ার্ল্ড লিকস নামের একটি কুখ্যাত র‍্যানসামওয়্যার গ্রুপ ডার্ক ওয়েবে এই পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রায় ১৯,০০০টি গোপন নথি প্রকাশ করেছে। ফাঁস হওয়া এই তথ্যগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশের নকশা বা ব্লুপ্রিন্ট এবং সরবরাহকারীদের বিশদ বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা এই পারমাণবিক প্রকল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগে এক জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

এই বিশাল ডাটা ব্রিচ বা তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি প্রথম চিহ্নিত করেন ভারতের স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাকেশ কৃষ্ণন যিনি রয়টার্সকে এই বিষয়ে প্রথম অবহিত করেছিলেন। ফাঁস হওয়া নথিপত্রগুলো মূলত ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত সময়কালের এবং এর মোট আকার প্রায় ১৪.৩ গিগাবাইট যা ডার্ক ওয়েবে গত ১১ জুন থেকে উন্মুক্ত রয়েছে। ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী অনিল আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স গ্রুপ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে এবং তাদের একটি তৃতীয় পক্ষীয় ডাটা সেন্টার ইয়োট্টা থেকে এই তথ্যগুলো আংশিক চুরি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে।

নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের সিনিয়র ডিরেক্টর নিকোলাস রথ এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে এই ধরণের নকশা এবং নথিপত্র ফাঁস হওয়া কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এর সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ২০১৮ সালে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর এবং ৪ নম্বর ইউনিটের অবকাঠামো নকশা ও নির্মাণের চুক্তি লাভ করেছিল যা আগামী বছরের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা হবে প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট। ওয়ার্ল্ড লিকস ওয়েবসাইটে থাকা রিলায়েন্সের মোট ৮৫৮,০০০টি নথির মধ্যে এই ১৯,০০০টি নথিকে সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা হ্যাকারদের হাতে চলে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই সাইবার হামলার ফলে ভারতের জাতীয় পারমাণবিক গ্রিড বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মূল অভ্যন্তরীণ সার্ভারগুলো কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না। ভারতের রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন অবশ্য এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে জনসমক্ষে চলে আসা এই তথ্যগুলো কেবল সাধারণ পরিষেবা সুবিধার সাথে সম্পর্কিত এবং এর সাথে মূল পারমাণবিক নিরাপত্তা বা সুরক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেছে যে পারমাণবিক চুল্লির মূল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে ভারতের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম বা সার্ট-ইন এই পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে এবং রিলায়েন্সের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।

পবিত্র কুরআনে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা খবরের সত্যতা ও তার উৎস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো অসতর্কতার কারণে বড় ধরণের বিপর্যয় না ঘটে (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:৬)। ওয়ার্ল্ড লিকস নামের এই হ্যাকার গ্রুপটি এর আগে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড নাইকি এবং ভারতের টাটা গ্রুপের ওপরও একই ধরণের সাইবার হামলা চালিয়েছিল এবং টাটা গ্রুপের কাছ থেকে অ্যাপল ও টেসলা কোম্পানির যন্ত্রাংশের নকশা ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছিল। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই হ্যাকাররা এই গোপন তথ্যগুলো ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করে থাকে যা বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

banner
Link copied!