শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভারতে প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম

ভারতে প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু

ছবি : সংগৃহীত

ভারত শুক্রবার হরিয়ানার জিন্দ রেলওয়ে স্টেশনে দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালু করেছে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিশ্চিত করেছেন, রয়টার্স ও দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ভারতের আত্মনির্ভরশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নের অভিমুখে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই নতুন প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই গোত্রভুক্ত কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখাল যারা তাদের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ শূন্য-নির্গমন প্রযুক্তি সফলভাবে মোতায়েন করতে পেরেছে। ন্যামো গ্রিন রেল নামের ১০টি বগি বিশিষ্ট এই বিশেষ ট্রেনটি হরিয়ানা রাজ্যের জিন্দ এবং সোনিপত শহরের মধ্যে প্রায় ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে প্রতিদিন দুইবার যাতায়াত করবে। পরিবেশবান্ধব এই ট্রেনটি সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে প্রায় ২৬০০ যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে সক্ষম বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও তৈরি করা এই ট্রেনটি চলাচলের সময় শুধুমাত্র তাপ এবং জলীয় বাষ্প উৎপন্ন করে যা এটিকে ক্ষতিকর ডিজেল চালিত ইঞ্জিনের একটি চমৎকার বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যদিও ভারত ইতিমধ্যে তাদের প্রায় ৭০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল রেল网络Network এর প্রায় ৯৯ শতাংশেরও বেশি অংশ বৈদ্যুতিকীকরণের আওতায় নিয়ে এসেছে, তবুও যেসব প্রত্যন্ত বা ঐতিহ্যবাহী রুটে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ স্থাপন সম্ভব নয় সেখানে এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি দ্বারা তৈরি এই ট্রেনটিতে দুটি ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি ট্রেইলার কোচ রয়েছে যা অনবোর্ড জ্বালানি কোষের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ তৈরি করে। বিশ্বব্যাপী সচল থাকা হাইড্রোজেন ট্রেনগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম দীর্ঘ এবং ৩২০০ অশ্বশক্তির শক্তিশালী ইঞ্জিন সম্বলিত একটি উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বর্তমানে জার্মানি, জাপান, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলো বাণিজ্যিকভাবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের পরীক্ষা বা পরিচালনা করছে যেখানে জার্মানি ২০২২ সালে বিশ্বের প্রথম এই ধরণের রেলবহর চালু করেছিল। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি মূলত ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতীয় রেলওয়েকে সম্পূর্ণ নেট-জিরো কার্বন নির্গমনের সংস্থায় রূপান্তর করার জাতীয় লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জিন্দ রেলওয়ে স্টেশনে এই প্রকল্পটিকে সফল করতে একটি আধুনিক হাইড্রোজেন প্রক্রিয়াকরণ ও ফুয়েলিং站Station ও স্থাপন করা হয়েছে যার ধারণক্ষমতা প্রায় ৩০০০ কেজি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে যা সাধারণ ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হলেও প্রযুক্তির পরিপক্কতার সাথে সাথে এর খরচ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো, কয়লাভভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল এই দেশটিতে শতভাগ পরিবেশবান্ধব গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ব্যয় কত দ্রুত সাধারণের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব হবে। ভারতীয় রেল মন্ত্রক হেরিটেজ রুট হিসেবে পরিচিত কালকা-শিমলা লাইনেও ভবিষ্যতে এই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। জিন্দে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনি উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশবাদীরা এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও তাদের মতে সামগ্রিক জলবায়ু নীতি বাস্তবায়নে দেশটিকে আরও দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে।

banner
Link copied!