বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

হামাসের নতুন রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান নির্বাচনে ফেঁসেছে ভোট

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৬, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

হামাসের নতুন রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান নির্বাচনে ফেঁসেছে ভোট

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস তাদের সাবেক রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়া এবং গাজার নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের শাহাদাতের পর শূন্য হওয়া শীর্ষ নেতৃত্ব পূরণে আগামী সপ্তাহে একটি চূড়ান্ত রান-অফ নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। সংগঠনটির নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মূল লড়াইটি হবে হামাসের প্রবীণ নেতা খালেদ মাশাল এবং বর্তমানে গাজায় হামাসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান খলিল আল-হাইয়ার মধ্যে। গত কয়েক মাসে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একের পর এক শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর হামাস তাদের অভ্যন্তরীণ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুনর্গঠনের একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল প্রক্রিয়া শুরু করে। এই রান-অফ নির্বাচনের মাধ্যমে দলটির রাজনৈতিক ব্যুরোর নতুন প্রধান নির্ধারিত হবেন, যা চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হামাসের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামরিক নীতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গত ২০২৪ সালের জুলাই ও অক্টোবর মাসে যথাক্রমে ইসমাইল হানিয়া ও ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর পর থেকে এই পদের শূন্যতা পূরণ করা দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

খালেদ মাশাল এর আগে দীর্ঘ একুশ বছর হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কাতার ও তুরস্কসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের সরকারের সাথে তাঁর অত্যন্ত শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে খলিল আল-হাইয়াকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এবং তেহরানপন্থী অন্যান্য আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই দুই নেতার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি হামাসের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ মাশাল কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন আর আল-হাইয়া তেহরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখতে আগ্রহী। খলিল আল-হাইয়া বর্তমানে হামাসের প্রতিনিধি হিসেবে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের পর গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির আলোচনা এবং কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় হামাসের নতুন অবস্থান কী হবে। এর আগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত হামাসের অভ্যন্তরীণ ভোটে কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় নির্বাচন প্রক্রিয়াটি স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। এবার আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত ভোটে সব কাউন্সিল সদস্যের অংশগ্রহণে নতুন প্রধান নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে বলে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই জটিল নেতৃত্ব সংকট সমাধানের মাধ্যমে সংগঠনটি পশ্চিমা ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে নতুন করে আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে চায় এবং গাজার সাধারণ নাগরিকদের মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের কাজ ত্বরান্বিত করতে চায়।

ইসলামী শরীয়াহ এবং রাজনৈতিক আদর্শ অনুযায়ী কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরামর্শভিত্তিক শূরা পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি ও প্রশংসনীয় কাজ (সূরা আশ-শূরা, ৪২:৩৮)। হামাস তাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে এই শূরা পরিষদ ও গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান পদ্ধতি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বজায় রেখে আসছে। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের এই প্রক্রিয়াটি আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত রূপ লাভ করবে এবং বিজয়ী প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বিশ্ব রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা যারা মনে করছেন এই নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক গন্তব্য নির্ধারণে একটি নতুন মোড় নিয়ে আসবে।

banner
Link copied!