শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জোট ওয়াইকো গঠন করল চীন

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৭, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম

নতুন বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জোট ওয়াইকো গঠন করল চীন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুক্রবার সাংহাইয়ে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে ওয়াইকো নামের একটি নতুন বৈশ্বিক জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বলে আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে। এই আন্তঃgovernmental বা আন্তঃসরকারি সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক স্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির সুষম উন্নয়ন ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা। সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই আন্তর্জাতিক জোটের সদর দফতর চীনের সাংহাই শহরে স্থাপন করা হয়েছে যা বৈশ্বিক প্রযুক্তি রাজনীতিতে বেইজিংয়ের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। বেইজিং গত বছর থেকেই এই ধরনের একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করে আসছিল যা অবশেষে পূর্ণতা পেল।

এই নতুন জোটে প্রাথমিকভাবে ২৯টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগদান করেছে। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, রাশিয়া এবং পাকিস্তানসহ গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে শি জিনপিং বলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ কোনো একক দেশের একক অভিনয় হওয়া উচিত নয় বরং এটি হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি সমবেত সঙ্গীত। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সুষম প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন যেন কোনো নতুন ঐতিহাসিক অবিচার তৈরি না হয়। চীন ইতিমধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সাথে এই প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির দূরদর্শী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই নতুন জোটের মাধ্যমে চীন জাতিসংঘের নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো গঠনে কতটা গভীর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে। বিশ্বজুড়ে চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলো ক্রমাগত জনপ্রিয়তা পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বেইজিং নিজেকে এই খাতের নতুন বৈশ্বিক নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। আমেরিকা ও চীনের মধ্যে বর্তমানে প্রযুক্তিগত আধিপত্য বিস্তারের যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে, এই নতুন জোট তার একটি অন্যতম বড় প্রমাণ। উভয় দেশই একে অপরের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। শি জিনপিং তাঁর বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্ত প্রসারিত করার বা এক দেশের নিরাপত্তাকে অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন।

তিনি আরও বলেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে অবশ্যই সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং এর জন্য যথাযথ প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এই সম্মেলনে চীন তাদের তৈরি বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও হিউম্যানয়েড রোবট প্রদর্শন করেছে যা মার্কিন প্রযুক্তির সক্ষমতার সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। বেইজিং মূলত এই ওয়াইকো জোটকে ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক নিয়মকানুন নিয়ন্ত্রণে আমেরিকার একচেটিয়া প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করতে চায় বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে চীন একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক ব্লক তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে যা আগামী দিনে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

banner
Link copied!