শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল: আর্জেন্টিনা ভক্তদের উত্তেজনা তুঙ্গে

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম

নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল: আর্জেন্টিনা ভক্তদের উত্তেজনা তুঙ্গে

ছবি : সংগৃহীত

নিউ ইয়র্কের কুইন্স থেকে ব্রুকলিন পর্যন্ত সর্বত্র এখন আকাশী-সাদা রঙের ছোঁয়া। আগামী রবিবার বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে নিউ ইয়র্ক শহরে বসবাসরত প্রবাসী আর্জেন্টিনা এবং বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা বিরাজ করছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুইন্সের এলমহার্স্টে অবস্থিত লিটল আর্জেন্টিনা এলাকার রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে দোকানপাট—সবই এখন তাদের প্রিয় দলের রঙে রাঙানো। নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে এই ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা এই শহর থেকে খুব একটা দূরে নয়।

ক্রিশ্চিয়ান জিমেনেজ নামের এক দীর্ঘদিনের বাসিন্দা জানান, সত্তরের দশকের অস্থির সময়ের পর অনেক আর্জেন্টিনীয় এখানে বসতি স্থাপন করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে গেলেও তাদের ফুটবলপ্রেম এখনো অটুট। তাদের বেকারি এবং রেস্তোরাঁগুলো এখন ভক্তদের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। লিওনেল মেসি ও দিয়েগো মারাদোনার ম্যুরাল এই এলাকার ফুটবল ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সত্তরোর্ধ্ব বিয়াত্রিজ হাইমে ১৯৭৮ সালের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, আর্জেন্টিনীয়দের কাছে ফুটবল কেবল খেলা নয়, এটি তাদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটি মাধ্যম।

ব্রুকলিনের কেনসিংটন এলাকা, যা লিটল বাংলাদেশ নামে পরিচিত, সেখানেও আর্জেন্টিনার জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। গত দুই দশকে এই এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। শফিকুল আলম নামের এক দোকানদার জানান, তার দোকানে ম্যাচ দেখার জন্য বাংলাদেশিরা ভিড় জমান। আশির দশকে টেলিভিশনের সহজলভ্যতা এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপে মারাদোনার জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর থেকেই বাংলাদেশিদের মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রতি এক গভীর আবেগ তৈরি হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক আজও টিকে আছে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে এটি আরও ছড়িয়ে পড়েছে।

সাজিদ ভূঁইয়া নামের এক স্থানীয় তরুণ জানান, মেসির এটি জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচ হতে পারে ভেবে সবাই বাড়তি উত্তেজনা অনুভব করছেন। আর্জেন্টিনা জয়ী হলে তা তাদের জন্য হবে এক বিশাল উৎসবের মুহূর্ত। ফাইনালের টিকিট পাওয়া না গেলেও নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। আর্জেন্টিনা এবং বাংলাদেশিদের এই সমর্থনের মেলবন্ধন নিউ ইয়র্কের জনজীবনে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। রবিবারের ফাইনাল ঘিরে শহরজুড়ে যেন এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

প্রতিটি ম্যাচেই আর্জেন্টিনা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখিয়েছে, যা ভক্তদের প্রাণভরে আনন্দ দিয়েছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়লাভের পর ভক্তদের আনন্দ ছিল বাঁধনহারা। ফাইনালের লড়াইয়েও তারা সেই একই ধরনের পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করছেন। নিউ ইয়র্কের এই সমর্থকরা মনে করেন, দূর দেশে থেকেও তারা তাদের দলের সঙ্গে মানসিকভাবে সংযুক্ত রয়েছেন। রবিবার রাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কী ঘটে, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই ফুটবল প্রেমীরা।

banner
Link copied!