উগান্ডায় একটি ভয়াবহ স্কুল বাস দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শিশুর মৃত্যুর পর মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে চব্বিশ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির পুলিশ শনিবার নিশ্চিত করেছে, এএফপি ও এপি জানিয়েছে। পূর্ব উগান্ডায় গত বৃহস্পতিবার রাতে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। কাম্পালার কিং ডেভিড জুনিয়র স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বহনকারী বাসটি সিপি ফলস এলাকায় একটি শিক্ষাসফর শেষে রাজধানীতে ফিরে আসার সময় এই দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে কাপচোরওয়া জেলার চেকওয়াতিথ গ্রামে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি উল্টে যায় এবং একটি বিশাল পাথরের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়।
এই ভয়াবহ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে তেইশ জনই অবুঝ শিশু এবং বাকি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি বলে জানা গেছে। নিহত ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিটিকে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান কর্মকর্তা বলে ধারণা করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে যে নিহতদের মধ্যে ছয়টি শিশুর পরিচয় এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার পর পর ডজনখানেক শিশুকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে কাপচোরওয়া জেনারেল হাসপাতালে আরও তেইশ জন আহত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সফরে থাকা অপর তিনটি বাস অবশ্য কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই নিরাপদে কাম্পালায় ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে।
উগান্ডায় স্কুল বাস দুর্ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনার পর দেশটির শিক্ষা ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় শুক্রবার অনতিবিলম্বে দেশব্যাপী সমস্ত স্কুল ভ্রমণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের বহনকারী যানবাহনের উপর্যুপরি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি ব্যাপক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানায়। একই সাথে পুলিশ বিভাগ ঘোষণা করেছে যে বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশেষ পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হবে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো এই তদন্ত প্রক্রিয়া কতদিন ধরে চলবে এবং দেশের দূরপাল্লার সড়কগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্থায়ী আধুনিকায়নে সরকার কী ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উগান্ডা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দেশ হিসেবে পরিচিত যেখানে প্রায়ই ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এবং জরাজীর্ণ সড়কের কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এছাড়া চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোকে এই নিয়মিত প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সড়ক নিরাপত্তা সংকটের কারণে উগান্ডার সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে এবং তারা নিয়মিত ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকেও উত্তর উগান্ডায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। এর আগে গত অক্টোবর মাসে দেশটির একটি প্রধান মহাসড়কে দ্রুতগতির দুটি বাসের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনার কারণে উগান্ডায় স্কুল বাস দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।
