শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৬: ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে স্পেন ও আর্জেন্টিনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

বিশ্বকাপ ফাইনাল ২০২৬: ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে স্পেন ও আর্জেন্টিনা

ছবি : সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের চূড়ান্ত ফাইনালে আগামীকাল নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও চ্যালেঞ্জার স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে. দীর্ঘ ৩৯ দিনের এই বিশ্বমঞ্চের লড়াইয়ের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এই মেগা ফাইনালের মধ্য দিয়ে. রবিবারের এই ঐতিহাসিক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে টুর্নামেন্টের সেরা আক্রমণভাগ বনাম সেরা রক্ষণভাগ. পুরো আসরে আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৯টি গোল করেছে এবং অন্যদিকে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে হজম করেছে মাত্র ১টি গোল. দীর্ঘ ৬০ বছর পর লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন দল দুটির মধ্যে এমন বিশ্বমঞ্চের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চরম উন্মাদনা তৈরি করেছে.

এই লড়াইয়ে আরও বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখা দিয়েছে দুই প্রজন্মের ফুটবলারদের মহাকাব্যিক লড়াই. স্পেনের ১৯ বছর বয়সী তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল মাঠে নামছেন তাঁর শৈশবের নায়ক তথা আর্জেন্টিনার ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি অধিনায়ক লিওনেল মেসির বিপক্ষে. এই ফাইনাল ম্যাচের সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে অপ্টা সুপারকম্পিউটার একটি আগাম হিসাব দিয়েছে. তাদের গাণিতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী স্পেনের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ৫৯.৪৬ শতাংশ এবং বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ট্রফি ধরে রাখার সম্ভাবনা ৪০.৫৪ শতাংশ. খেলাটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আমেরিকার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যা বিশ্বকাপের জন্য নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়াম নামে পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে. ২০১০ সালে নির্মিত ৮২ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশাল স্টেডিয়ামটি ইতিপূর্বে ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল এবং উভয় সেমিফিয়াল আয়োজন করেছিল.

ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখা যায় যে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে অতীতে মোট ১৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে. এর মধ্যে উভয় দলই সমান ৬টি করে ম্যাচে জয়লাভ করেছে এবং বাকি ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে. তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে দল দুটির দেখা হয়েছিল মাত্র একবার. দূর অতীতে ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সেই একমাত্র ম্যাচে স্পেনকে ২-১ গোলে পরাজিত করেছিল আর্জেন্টিনা. মহাকাব্যের এই আসরে স্পেন এখন পর্যন্ত একবার অর্থাৎ ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল এবং আর্জেন্টিনা ১৯৭৮, ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে মোট তিনবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে. এছাড়া মহাদেশীয় টুর্নামেন্টে স্পেন রেকর্ড চারবারের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন এবং আর্জেন্টিনা রেকর্ড ১৬ বারের কোপা আমেরিকা জয়ী দল.

চলতি আসরে স্পেনের সাফল্যের পেছনে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন দলের শীর্ষ গোলদাতা মিকেল ওয়ারজাবাল যিনি ইতিমধ্যে ৫টি গোল করেছেন. তাঁর পাশাপাশি স্পেনের মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টে ৬৪৮টি সফল পাস দিয়ে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন. অন্যদিকে আর্জেন্টিনার মূল ভরসা লিওনেল মেসি যিনি ইতিমধ্যে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন. মেসি নকআউট পর্বের আগ পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন এবং দলের তরুণ স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ ৩টি ও এনজো ফার্নান্দেজ ২টি গোল করে দলের আক্রমণভাগকে শক্তিশালী করেছেন. স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়েছেন যে এই ফাইনালে উভয় দলই এমন কৌশল অবলম্বন করবে যেখানে ফুটবলীয় প্রতিভা ও সুন্দর ফুটবলই প্রধান প্রাধান্য পাবে.

আর্জেন্টিকার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি ৩৯ বছর বয়সেও মেসির এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং দলকে ফাইনালে নিয়ে যাওয়ার দক্ষতাকে অবিশ্বাস্য ও গর্বের বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন. আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এক আবেগঘন বার্তায় তাঁর সতীর্থদের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি মন খুলে উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন. যা কম স্পষ্ট তা হলো মেটলাইফ স্টেডিয়ামের এই কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক মিশ্র ঘাসের নতুন পিচটি রবিবারের তীব্র গরমে খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক গতি ও বল নিয়ন্ত্রণের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে. নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা যদি ড্র হয় তবে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলা হবে এবং সেখানেও মীমাংসা না হলে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে.

banner
Link copied!