বুধবার, ০৩ জুন, ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

স্যাটেলাইট চিত্রে ফাঁদ: গাজায় ৪০টি সামরিক ঘাঁটি বানাল ইসরায়েল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৩, ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

স্যাটেলাইট চিত্রে ফাঁদ: গাজায় ৪০টি সামরিক ঘাঁটি বানাল ইসরায়েল

যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী গাজা থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় স্থায়ী ও সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি গড়ে তুলছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক ওপেন সোর্স অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে। মে ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গাজার অভ্যন্তরে অন্তত ৪০টি সুনির্দিষ্ট ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান শনাক্ত করা গেছে।এই স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি মূলত গত বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সরাসরি বুড়ো আঙুল দেখায়।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ৪০টি ঘাঁটির মধ্যে অন্তত আটটি সম্পূর্ণ নতুন বেস, যা গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর একেবারে শূন্য থেকে তৈরি করা হয়েছে। এই স্থায়ী সামরিক অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টি ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকাশ্য আঞ্চলিক ভূখণ্ডগত উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই প্রতিফলিত করে। সম্প্রতি এক সম্মেলনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজা উপত্যকার সিংহভাগ জমি স্থায়ীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সরকারি নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করেছেন। ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত সামরিক বা বাফার জোন হিসেবে পরিচিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখায় অবস্থান করছে। সম্মেলনে নেতানিয়াহু দাবি করেন যে তারা হামাসকে চেপে ধরেছেন এবং পর্যায়ক্রমে গাজার ৭০ শতাংশ অঞ্চল নিজেদের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

স্যাটেলাইট চিত্রগুলোর বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে এগুলো কোনো সাময়িক পর্যবেক্ষণ চৌকি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা। এই নতুন ঘাঁটিগুলোর ভৌগোলিক বিন্যাস অত্যন্ত কৌশলগতভাবে করা হয়েছে, যার মধ্যে উত্তর গাজায় দুটি, কেন্দ্রীয় অঞ্চলে দুটি, নেৎসারিম করিডোরের পূর্বে একটি এবং দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস শহরে তিনটি ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে খান ইউনুসের ঐতিহাসিক পূর্ব কবরস্থানে, যা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে তার ওপর একটি বড় সামরিক বেস তৈরি করা হয়েছে। নভেম্বর ২০২৫ থেকে সেখানে সামরিক প্রকৌশল কাজ শুরু হয় এবং মে ২০২৬-এর মধ্যে সাইটটিতে সামরিক যানবাহন ও সেনা আবাসন পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে।

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া অঞ্চলেও একই ধরনের দ্রুত সামরিকীকরণের চিত্র দেখা গেছে। অক্টোবর ২০২৫ সালের ছবিতে যে এলাকাটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল, নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়েই সেখানে হঠাৎ ভারী সামরিক প্রকৌশল কাজ শুরু হয়। আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে উপেক্ষা করে গাজায় এই স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে নতুন করে গভীর সংকটে ফেলেছে।

banner
Link copied!