রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৮, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক নোটিসের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে। নতুন এই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে। এর আগে পূর্ববর্তী ঘোষণা অনুযায়ী এই আন্তর্জাতিক আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়েছিল। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক সীমান্তবর্তী তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান এই কঠোর প্রতিরক্ষামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই জরুরি নিষেধাজ্ঞাটি ভারতে নিবন্ধিত অথবা যেকোনো privatisation বা ভারতীয় এয়ারলাইনস ও বাণিজ্যিক অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত কিংবা লিজ নেওয়া প্রতিটি যাত্রীবাহী ও মালবাহী উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। বেসামরিক বিমান চলাচলের পাশাপাশি ভারতের সব ধরনের সামরিক বিমানের জন্যও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটির নির্দেশনা অনুযায়ী দেশটির করাচি এবং লাহোর—উভয় ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়নের ওপর দিয়েই ভারতীয় কোনো বিমান উড্ডয়ন করতে পারবে না। আন্তর্জাতিক আকাশসীমা আইনের এই কঠোর প্রয়োগের ফলে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোকে এখন থেকে বিকল্প এবং দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হবে যার ফলে তাদের বাণিজ্যিক পরিচালন ব্যয় এবং জ্বালানি খরচ অনেক বৃদ্ধি পাবে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পারমাণবিক পরাশক্তির মধ্যে গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের শেষ দিক থেকেই পরস্পরের বিমান চলাচলের জন্য আকাশসীমা বন্ধ রাখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় একটি আকস্মিক হামলার ঘটনার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এক নজিরবিহীন স্তরে পৌঁছায়। পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব ভারতের একাধিক উসকানিমূলক পদক্ষেপের পাল্টা জবাব ও জাতীয় সুরক্ষার অংশ হিসেবেই প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর আগে বিগত ১৯৯৯ সালে ঐতিহাসিক কারগিল সংঘাত এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা সংকটের সময়ও পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।

সাম্প্রতিক এই আকাশপথের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছিল যে তারা ভারতের বেশ কিছু অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও মনুষ্যবিহীন নজরদারি ড্রোন তাদের আকাশসীমার ভেতরে ভূপাতিত করেছে। সেই সংকটময় সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও আকাশসীমা সংক্রান্ত এই নিষেধাজ্ঞা এখনও কঠোরভাবে জারি রাখা হয়েছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো এই দীর্ঘমেয়াদি বিমান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং সাধারণ নাগরিকদের জরুরি যাতায়াতের ওপর দীর্ঘমেয়াদে ঠিক কী ধরনের বিরূপ প্রভাব ফেলবে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার পারদ এখনও অনেক উঁচুতে থাকায় এই জটিল আঞ্চলিক পরিস্থিতির দ্রুত কোনো রাজনৈতিক ও কৌশলগত উন্নতির লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

এই দীর্ঘায়িত নিষেধাজ্ঞার ফলে বৈশ্বিক বিমান চলাচল ব্যবস্থাতেও এক ধরনের বড় পরিকাঠামোগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে কারণ আন্তর্জাতিক রুটের অনেক বিমানকেও এখন এই অঞ্চলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে হচ্ছে। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করতে আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না যা সাধারণ মানুষের মনে চরম হতাশার জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের নীতিনির্ধারকেরা যদি অনতিবিলম্বে কোনো ফলপ্রসূ শান্তি আলোচনায় বসতে না পারেন তবে এই অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

banner
Link copied!