বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা: চাপে তৃণমূল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৪, ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম

মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা: চাপে তৃণমূল

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে কলকাতার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। বুধবার সন্ধ্যায় তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এনডিটিভি ও দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরকার রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

৬৭ বছর বয়সী ফিরহাদ হাকিম ২০১৮ সাল থেকে কলকাতার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। মুখ্যমন্ত্রী এবার তার পদত্যাগের অনুরোধে সম্মতি দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কলকাতা পৌর করপোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তৃণমূলের দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাজ্যের প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে তিনি এর আগেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন। সে সময় দলীয় প্রধান তাকে পদে বহাল থাকার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে বর্তমানে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং কাউন্সিলরদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তার এই পদত্যাগ তৃণমূলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনি দলের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদ হাকিমের এই পদত্যাগ কলকাতার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে। ২০১০ সাল থেকে কলকাতা পৌর করপোরেশন তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন এবং পরবর্তী মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে দলে এখন ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মেয়রের নাম এখনো ঘোষণা করেনি দলীয় হাইকমান্ড।

গত মাসে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে বিরোধী দলীয় নেতৃত্বের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। দলের এমন একের পর এক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে নানামুখী গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ সেই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে।

এদিকে, কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৃণমূল কাউন্সিলরদের পদত্যাগ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই স্থানীয় গণমাধ্যমে উঠে আসছিল। প্রশাসনিক কাজ পরিচালনায় জটিলতা এবং দলীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ফিরহাদ হাকিমের পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস পৌর করপোরেশনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কতটা ধরে রাখতে পারে।

যা কম স্পষ্ট তা হলো, মেয়র পদের পাশাপাশি তিনি মন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন কি না। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারি বা দলীয় কোনো পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বিবৃতি আসেনি। ফিরহাদ হাকিম কলকাতার রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়ের নাম, তাই তার সরে দাঁড়ানোর প্রভাব তৃণমূলের তৃণমূল পর্যায়ের রাজনীতিতে পড়বে বলেই ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

banner
Link copied!