থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজকীয় ক্ষমা পেয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। এর ফলে দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দণ্ডিত এই প্রভাবশালী নেতার দীর্ঘ কারাদণ্ড এবং আইনি জটিলতার অবসান ঘটল। বিবিসি নিউজ এবং রয়টার্স জানিয়েছে, রাজকীয় ক্ষমার আদেশের মাধ্যমে তার সাজার অবশিষ্ট মেয়াদ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে।
গত কয়েক দশক ধরে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অঙ্গনে শিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রভাব অপরিসীম। ২০২৩ সালে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির দায়ে থাকসিন শিনাওয়াত্রাকে ৮ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন দেশটির শীর্ষ আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই তিনি স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তার সাজার মেয়াদ কমিয়ে এক বছর নির্ধারণ করা হলেও, আইনি প্রক্রিয়ার নানা ধাপে তাকে কারাগারের দীর্ঘ সময় পার করতে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাকে কমপক্ষে আট মাস কারাগারে থাকার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছিল, যা থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গত ১১ মে ব্যাংককের ক্লং প্রেম কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পান ধনকুবের থাকসিন শিনাওয়াত্রা। কারামুক্তির সময় তার মেয়ে এবং থাইল্যান্ডের আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রা তাকে অভ্যর্থনা জানান। কারাগারের বাইরে থাকসিনের বিপুল সংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। জেল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে থাকসিন জানান যে তিনি এখন সব অতীত ভুলে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চান। তার এই মুক্তিকে থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
থাইল্যান্ডের আইন অনুযায়ী, রাজকীয় ক্ষমা পাওয়ার পর একজন দণ্ডিত ব্যক্তির সাজার বাকি অংশ আর কার্যকর থাকে না। থাকসিনের ক্ষেত্রেও সেই আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। বিগত কয়েক মাস তিনি আইনি লড়াই এবং স্বাস্থ্যজনিত নানা কারণ দেখিয়ে কারাগারে বা হাসপাতালে সময় কাটিয়েছেন। তার এই মুক্তি থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শিনাওয়াত্রা পরিবারের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন তৈরি করেছে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো, ভবিষ্যতে তিনি সরাসরি সরকারি কোনো পদে আবার ফিরবেন কি না। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, থাকসিন সরাসরি দায়িত্ব না নিলেও নেপথ্য থেকে দলের ওপর তার প্রভাব আগের মতোই বজায় থাকবে। থাইল্যান্ডের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে থাকসিনের এই রাজকীয় ক্ষমা প্রাপ্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময়ের আইনি টানাপড়েনের পর রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। থাইল্যান্ডের বর্তমান সরকার কিংবা বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই ক্ষমা প্রদান সম্পর্কে কোনো অতিরিক্ত বিবৃতি দেয়নি। থাকসিন শিনাওয়াত্রার রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের অপেক্ষা।
