তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা শিবিরে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে একের পর এক সাংসদের পদত্যাগে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি ও নেতৃত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেবের পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা প্রকাশ চিক বরাইক। তার এই আকস্মিক পদত্যাগে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১০-এ নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে দেশের উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন প্রকাশ চিক বরাইক। তৃণমূলের তরুণ প্রজন্মের নেতাদের মধ্যে তাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রকাশকে ২০২৩ সালে তৃণমূল নেতৃত্ব রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। এমনকি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে তাকে প্রার্থীও করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনে পরাজয়ের পর তার দলের প্রতি আনুগত্য নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল।
উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে প্রকাশ চিক বরাইক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল দলের নীতিনির্ধারকদের। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করার গুঞ্জনও রাজনৈতিক মহলে ছিল। কিন্তু সব সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তার এই পদত্যাগ এখন নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তিনি কি ব্যক্তিগত কারণে সরে দাঁড়ালেন, নাকি ভবিষ্যতে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণে যোগ দিতে চলেছেন—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রকাশ চিক বরাইক নিজে এখনো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, যা দলের অন্দরে অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এক সপ্তাহে তিনজন অভিজ্ঞ সাংসদের ইস্তফা তৃণমূলের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক বিপর্যয়। দলের অভ্যন্তরে যে চরম সংকট ও আস্থার অভাব তৈরি হয়েছে, এই পদত্যাগপত্রগুলো তারই প্রতিফলন। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের এভাবে দলত্যাগ তৃণমূলের নেতৃত্বকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে তার পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট হলে বোঝা যাবে, এই পদত্যাগ শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নাকি তৃণমূলের পতনের নতুন কোনো অধ্যায়ের শুরু। আপাতত এই রহস্যের উত্তর খুঁজতে তাকিয়ে আছে পুরো ভারতের রাজনৈতিক মহল।
