পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, তার সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত এক মাসে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রবিবার কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। মুখ্যমন্ত্রী জানান, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতার বাইরে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম তারা শুরু করেছেন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মে মাসে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আটককেন্দ্র বা হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখান থেকেই এই ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো হয়।
শুভেন্দু অধিকারীর ভাষ্যমতে, চার হাজার আট শ জন বাংলাদেশি নাগরিককে এরই মধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও আট শ ছত্রিশ জন বর্তমানে বিভিন্ন আটককেন্দ্রে রয়েছেন, যাদের শীঘ্রই ফেরত পাঠানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপি অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ও ফেরত পাঠানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই অভিযান তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই কার্যক্রম নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এই অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অনেকের মতে, বিজেপি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মুসলমানের মধ্যে আতঙ্ক ও প্রান্তিকতার অনুভূতি বাড়িয়ে তুলেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, দলটি ধর্মীয় পরিচয়কে অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলছে, যা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতিতে অভিবাসন একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে বৈঠক শুরু হওয়ায় সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত অত্যন্ত দীর্ঘ ও অরক্ষিত হওয়ায় ঐতিহাসিকভাবেই সেখানে অভিবাসনের ঘটনা ঘটে আসছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবি এবং সরকারি পদক্ষেপ সীমান্ত রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই প্রক্রিয়াটিকে আইনি ও মানবিক কাঠামোর মধ্যে আনার জোর দাবি জানিয়েছে।
