যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১০৯ দিন ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে লড়াই বন্ধ হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর পরবর্তী ৬০ দিন উভয় দেশ পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ পাবে। ট্রাম্পের দাবি, শুক্রবারের মধ্যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং এই সময়ে কোনো টোল নেওয়া হবে না।
যদিও ইরান দাবি করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র ২৫ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করতে এবং তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সম্মত হয়েছে, তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তিনি মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে কোনো ডলার ছাড় বা নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়নি। চুক্তিটি মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি সাধারণ দলিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চুক্তিটির বিষয়ে ইরানের স্পিকার গালিবফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই চুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প চুক্তির বিষয়টিকে মার্কিন জনগণের জন্য একটি জয় হিসেবে প্রচার করলেও, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অনেক নেতা এর কড়া সমালোচনা করেছেন। সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল এই পরিস্থিতিকে সুয়েজ খালের সংকটের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে এই চুক্তির প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, মার্কিন-ইরান চুক্তির পরেও ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযান অব্যাহত রাখবে। নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য এই চুক্তি মানতে অস্বীকার করেছেন এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলি আক্রমণে গত সোমবারও অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর মাধ্যমে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানেও নতুন উদ্যোগ নিতে পারে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই অনিশ্চয়তার প্রতিফলন। শান্তি চুক্তির বিষয়টি সফল হবে কি না, তা আগামী ৬০ দিনের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
