মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রদত্ত বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিয়ে নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরে এসেছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্দো এরনান্দেস, রয়টার্স ও আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। রবিবার রাজধানী টেগুসিগালপার কাছে পালমেরোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক বেসরকারি বিমানে অবতরণ করেন তিনি। চার বছর আগে মার্কিন বিচার বিভাগের অনুরোধে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হয়েছিল। বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে পরিবার, স্বজন ও ন্যাশনাল পার্টির শত শত সমর্থক উপস্থিত হন।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মার্কিন বিচার বিভাগ তাকে বিশ্বজুড়ে অন্যতম বড় ও সহিংস মাদক চোরাচালান চক্রের সহযোগী বলে চিহ্নিত করেছিল। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি প্রায় চারশ টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে চোরাচালানে সহায়তা করে লাখ লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। তবে তিনি সবসময়ই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে এসেছেন যে তিনি উল্টো মাদক চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।
গত বছরের শেষের দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদের বিশেষ নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে এরনান্দেসকে পূর্ণ সাধারণ ক্ষমা প্রদান করেন। ট্রাম্প দাবি করেন যে বাইডেন প্রশাসনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন এরনান্দেস এবং তার বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ছিল না। সাধারণ ক্ষমার পরপরই তার মুক্তির আদেশ কার্যকর হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাজা মওকুফ হলেও দেশে ফেরায় তার ওপর থেকে আইনি ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে যায়নি, কারণ দেশের ভেতরে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের পৃথক মামলা বহাল রয়েছে।
হন্ডুরাসের স্থানীয় একটি আদালত আগামী তিন আগস্ট তাকে রাষ্ট্রীয় তহবিল তছরুপ এবং দুর্নীতির অভিযোগে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পানডোরা ২ নামক তদন্তে তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য সরকারি বাজেট থেকে প্রায় এক কোটি দশ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে গত জুনে দেশটির আদালত তার বিরুদ্ধে জারি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করায় দেশে ফেরার পর তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়নি। অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা করছেন যে নিজ দল ন্যাশনাল পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকা বর্তমান সরকারের অধীনে এই বিচার কেবল নামমাত্র আইনি প্রক্রিয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের মুক্ত হওয়া এবং দেশে ফেরা হন্ডুরাসের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামীতে তিনি পুনরায় প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা চলছে। যা কম স্পষ্ট তা হলো, স্থানীয় বিচারব্যবস্থায় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ শেষ পর্যন্ত কতটুকু আইনানুগতভাবে প্রমাণিত বা নিষ্পত্তিকৃত হবে।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও আইনি বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই ক্ষমার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেফতার করার পর হন্ডুরাসের দণ্ডপ্রাপ্ত নেতাকে এভাবে ক্ষমা করার মধ্যে দ্বিমুখী নীতির প্রকাশ রয়েছে বলে তাদের মত। তবে দেশে ফিরে এরনান্দেস তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেছেন যে সত্যের জয় হয়েছে এবং তিনি দেশের সার্বিক সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
