বিতর্কিত নির্বাচন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে জাম্বিয়ার দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ শুরু করেছেন রাষ্ট্রপতি হাকাইন্দি হিচিলেমা। রাজধানী লুসাকায় এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল জাজিরা ও এএফপির তথ্যানুযায়ী, তার এই শপথগ্রহণ এমন এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হলো যেখানে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাকাইন্দি হিচিলেমা প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্দুবিল প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পান। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে মুন্দুবিল ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন জানিয়েছে যে ভোটারদের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সুযোগ থাকলেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সমান সুযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়নি এবং ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল।
ক্ষমতায় আসার পর থেকে হাকাইন্দি হিচিলেমা দেশের অর্থনীতিকে ট্র্যাকে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মহামারী চলাকালীন ২০২০ সালে জাম্বিয়া আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সার্বভৌম ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি এবং সফল ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হন। তামা উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের বাজারে জাম্বিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
তবে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে। বিরোধীরা এই ইস্যুগুলোকে সামনে রেখেই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিল। নির্বাচনের পর ভোট গণনাকেন্দ্রগুলোতে সহিংসতা ও ফল ঘোষণায় বিলম্বের কারণে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
নির্বাচনী বিরোধের জেরে পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। বিরোধীদের আইনি পদক্ষেপের পথ রুদ্ধ করতে হাইকোর্ট চত্বর বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সরকারের বিরুদ্ধে। এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ব্রায়ান মুন্দুবিল ও তার রানিং মেট তাকেবি জুলুকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া ভোট চলাকালীন এক নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে সাবেক মন্ত্রী মুতোতওয়ে কাফওয়ায়া নিহত হওয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
