শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

মনসুর আব্বাসের নির্বাচনী কৌশলে সিগালোভিচের স্থান

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

মনসুর আব্বাসের নির্বাচনী কৌশলে সিগালোভিচের স্থান

মনসুর আব্বাসের নির্বাচনী কৌশল হিসেবে রক্ষণশীল আরব দল রাম-এর নির্বাচনী তালিকায় সাবেক পুলিশ মেজর জেনারেল ও মধ্যপন্থী দল ইয়েশ আতিদের সাবেক সংসদ সদস্য ইয়োভ সিগালোভিচকে দ্বিতীয় স্থানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, আল জাজিরা এবং দ্য মিডিয়া লাইন জানিয়েছে। এই যৌথ রাজনৈতিক পদক্ষেপে একজন প্রভাবশালী ইহুদি জায়নবাদী রাজনীতিক প্রকাশ্যেই আরব-নেতৃত্বাধীন একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু ইহুদি ভোটারদের সমর্থন টানার সাধারণ কোনো চেষ্টা নয়, বরং সরকার গঠনের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি ভোটারদের অবস্থান জোরালো করার একটি সূক্ষ্ম প্রাতিষ্ঠানিক কৌশল।

ঘোষিত রাজনৈতিক চুক্তি অনুযায়ী ইয়োভ সিগালোভিচ রাম দলের সদস্যপদ গ্রহণ করছেন না, বরং তিনি শুধু নির্বাচনী তালিকা এবং সংসদীয় দলের অংশীদার হিসেবে কাজ করবেন। এর ফলে রাম দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো, গঠনতন্ত্র এবং সাধারণ নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসছে না। ধর্ম ও রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের রূপরেখা, প্রতিরক্ষা কৌশল কিংবা সামাজিক অধিকারের মতো সংবেদনশীল মতাদর্শিক বিষয়ে উভয় পক্ষ স্বাধীনভাবে অবস্থান নিতে পারবে।

ইসরায়েলের আরব সমাজে মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়া অপরাধ ও সহিংসতা দমনে সিগালোভিচের পূর্ববর্তী কাজের ইতিবাচক সুনাম রয়েছে। সাবেক জোট সরকারের জননিরাপত্তা উপমন্ত্রী হিসেবে তিনি অপরাধ চক্র দমনে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, যা স্থানীয় আরব নেতাদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। নাগরিক জীবনের এই নিরাপত্তা সংকটকে সামনে রেখে মনসুর আব্বাস নির্বাচনী আসন সংখ্যার চেয়ে সেই আসনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক উপযোগিতা বাড়ানোর দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।

মনসুর আব্বাসের রাজনৈতিক দর্শন মূলত ক্ষমতার বৃত্তে কার্যকর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অতীতে আরব দলগুলো আইনসভায় দশ থেকে পনেরোটি আসন পেলেও সরকার গঠনের সময় তাদের রাজনৈতিকভাবে অস্পৃশ্য মনে করা হতো। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা ভেঙে মূলধারার সরকারি নীতি নির্ধারণে অংশ নিয়ে বাজেট বরাদ্দ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। তবে বিগত বছরগুলোর তীব্র যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষাপটে আরব দলগুলোর সাথে সরকার গঠনের সেই রাজনৈতিক ন্যায্যতা মারাত্মক বাধার মুখে পড়েছিল।

বিরোধী ইহুদি দলগুলোর অনেকেই সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য আরব আসনের ওপর নির্ভরশীল হলেও প্রকাশ্যে তাদের সাথে জোট বাধার ঘোষণা দিতে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে থাকে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রায়শই ইহুদি ভোটারদের মধ্যে এই ভয় তৈরি করতে চেয়েছেন যে তার বিরোধীরা আরব দলগুলোর ওপর ভরসা করে ক্ষমতায় আসবে। রাম দলের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে একজন শীর্ষস্থানীয় সাবেক পুলিশ কমান্ডারকে বসিয়ে মনসুর আব্বাস সেই রাজনৈতিক অভিযোগের কার্যকারিতা দুর্বল করতে চাইছেন।

এই ধরনের সমঝোতার ফলে দীর্ঘমেয়াদে ফিলিস্তিনিদের জাতীয় অধিকারের মৌলিক প্রশ্নগুলো আড়ালে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন সমালোচকেরা। সম্মিলিত আরব যৌথ তালিকায় ফিরে না গিয়ে নিজস্ব ধারায় চলা এবং জায়নবাদী চরিত্রের রাজনীতিককে অন্তর্ভুক্ত করা আদর্শিক আপস হিসেবে দেখছেন কট্টরপন্থীরা। আরব নাগরিকদের নাগরিক সুরক্ষা ও সরকারি বাজেটের বাস্তব প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এই পরীক্ষামূলক রাজনীতি কতটুকু কার্যকর হবে, তা পরবর্তী সংসদীয় সরকার গঠনের সময় নির্ধারিত হবে।

উভয় পক্ষের এই জোট ইসরায়েলি রাজনীতিতে আরব প্রতিনিধিত্বের ভূমিকা নতুন করে পর্যালোচনার সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এই কৌশলের প্রভাব এবং ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার ওপর পুরো প্রক্রিয়াটির সাফল্য নির্ভর করছে বলে পর্যবেক্ষণ করছেন রাজনৈতিক গবেষকেরা।

banner
Link copied!