আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ম্যাচে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তিন দুই ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির দল। তবে এই ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মিশরের আনীত অভিযোগ। ম্যাচ পরিচালনাকারী রেফারিদের পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং একটি গোল বাতিল হওয়ার ঘটনায় ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক নালিশ জানিয়েছে মিশরীয় ফুটবল দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। মিশর দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। পেনাল্টি মিস করলেও লিওনেল মেসি দলের হয়ে সমতা ফেরান। পরবর্তীতে এনজো ফার্নান্দেজের শেষ মুহূর্তের গোলে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। তবে মিশরের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা দাবি করছেন, তাদের একটি গোল ভুলভাবে বাতিল করা হয়েছে এবং পুরো ম্যাচজুড়ে রেফারি আর্জেন্টিনার প্রতি কিছুটা নমনীয় ছিলেন।
মিশরের পক্ষ থেকে ফিফার কাছে এই ঘটনার তদন্ত চেয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে এই ধরনের সিদ্ধান্ত খেলার সত্যতা ও স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্তের দাবিটি বেশ জটিল। সাধারণত ম্যাচ চলাকালীন যেকোনো সিদ্ধান্তের ওপর ফিফার দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত বা পরিবর্তন আনার সুযোগ খুবই সীমিত। এমন অভিযোগের সুরাহা হওয়াও বেশ কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মনে করছেন, খেলার মাঠে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়। আবার অনেকের মতে, বিশ্বকাপের মতো উচ্চমানের টুর্নামেন্টে প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার মান বজায় রাখা জরুরি। এদিকে, মিশরের অভিযোগটি ফিফার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। কেননা ফিফা সাধারণত তাদের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে নমনীয় নয়।
এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা এখন কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়ার বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুট আউটে জয়লাভ করে সুইজারল্যান্ড শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে। তবে মাঠের বিতর্কের রেশ মিশিয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলো ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ আরও তুঙ্গে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপের এই আসরে একদিকে যেমন গোল উৎসব চলছে, অন্যদিকে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে প্রশ্নও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
