ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার জুড বেলিংহাম শনিবার মিয়ামির তীব্র গরমের মধ্যে নরওয়েকে হারিয়ে দলকে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিয়ে গেছেন বলে রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে। মিয়ামির প্রতিকূল আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে এই তরুণ মিডফিল্ডার অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলসহ জোড়া গোল করে দলের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের ফলে দীর্ঘ ষাট বছর পর সোনালী ট্রফি জয়ের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ইংলিশরা। আগামী বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে তারা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
এই ম্যাচে চমৎকার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জুড বেলিংহাম ফুটবলের ইতিহাসের কিছু महान কিংবদন্তির পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন। তিনি ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মহানায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টানা দুটি ম্যাচে দুই বা ততোধিক গোল করার ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছেন। মাত্র তেইশ বছর বয়সে এই গৌরব অর্জন করে তিনি ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে সতেরো বছর বয়সে ব্রাজিলের পেলের গড়া রেকর্ডের পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে এই তালিকায় স্থান করে নিলেন। নরওয়ের বিরুদ্ধে পুরো ম্যাচে তিনি এককভাবে সর্বোচ্চ পাঁচবার প্রতিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে শট নেন এবং প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করে দলের আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
চলতি বিশ্বকাপে জুড বেলিংহামের পারফরম্যান্সের গ্রাফ ক্রমাগত ওপরের দিকে উঠেছে যা তাকে দলের সবচেয়ে অপরিহার্য ফুটবলারে পরিণত করেছে। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর মোট বারোটি আন্তর্জাতিক গোলের মধ্যে নয়টিই এসেছে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে যার মধ্যে পাঁচটি গোলই দলকে সরাসরি জয়ের পথে এগিয়ে দিয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে প্রধান কোচ টমাস টুখেলের কিছু সিদ্ধান্তের কারণে দলে তাঁর স্থান নিয়ে নানা বিতর্ক ও জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে বড় ম্যাচের খেলোয়াড় হিসেবে টুখেল শেষ পর্যন্ত তাঁর ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং তিনি কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দেন। এই বিশ্বকাপে তিনি ডান পা, বাম পা এবং হেডের সাহায্যে গোল করে নিজের বহুমুখী যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন যা ফুটবল ইতিহাসে বিরল।
আগামী বুধবারের সেমিফাইনালে ফুটবল বিশ্ব এক ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে পাবে যেখানে আর্জেন্টিনার উনচল্লিশ বছর বয়সী কিংবদন্তি লিওনেল মেসির মুখোমুখি হবেন তেইশ বছরের উদীয়মান তারকা জুড বেলিংহাম। চলতি বিশ্বকাপে মেসি ইতিমধ্যে আটটি গোল করে আর্জেন্টিনাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করতে খেলছেন। যা কম স্পষ্ট তা হলো আটলান্টার এই মহালড়াইতে কার রণকৌশল শেষ পর্যন্ত সফল হবে এবং কে নিজের দেশকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে পারবেন। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এই দুই নম্বর দশ জার্সি পরিহিত মহাতারকার মধ্যকার দ্বৈরথই নির্ধারণ করবে কোন দল ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি ছোঁয়ার চূড়ান্ত লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে।
