ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত বারোটার কিছু পরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের আগ্রহের পারদ তুঙ্গে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। অন্যদিকে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন তাদের কৌশলী ফুটবলের মাধ্যমে ফাইনালে জায়গা করে নিতে মরিয়া হয়ে আছে। আল জাজিরা ও এএফপির তথ্যমতে, এটি বিশ্বকাপের এই আসরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলোর একটি।
ফ্রান্স তাদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে এবং নকআউট পর্বে মরক্কোকে দুই শূন্য গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবারের টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। তিনি পাঁচ ম্যাচে আটটি গোল করে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে স্পেন তাদের গ্রুপ পর্বের সাফল্য ধরে রেখে নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা রক্ষণভাগে যেমন শক্তিশালী, তেমনি মাঝমাঠে রদ্রি ও পেদ্রির নিয়ন্ত্রণ তাদের খেলাকে করেছে ভারসাম্যপূর্ণ।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বেশ পুরনো ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। এ পর্যন্ত দুই দল আটত্রিশবার মুখোমুখি হয়েছে। এতে স্পেনের জয়ের সংখ্যা আঠারো এবং ফ্রান্সের জয়ের সংখ্যা তেরো। সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে পাঁচ চার গোলের ব্যবধানে হেরেছিল ফ্রান্স। সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি ফাইনালে ওঠার সুযোগ এখন ফ্রান্সের সামনে। তবে স্পেন কোচ মনে করছেন, তাদের দলের আত্মবিশ্বাস বর্তমানে তুঙ্গে এবং তারা যে কোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর ক্ষমতা রাখে।
ফ্রান্সের কোচ দলের আক্রমণভাগের ওপর ভরসা রাখলেও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের চোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। উপামেকানো ও সালিবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে স্পেনের শিবিরে এখন পর্যন্ত কোনো ইনজুরির খবর পাওয়া যায়নি। ডালাস স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক ফুটবল বনাম স্পেনের কৌশলী খেলার লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব। জয়ের পর যে দলই ফাইনালে উঠুক না কেন, আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হবে তাদের। বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের পথে এটিই এখন বড় বাধা।
