বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

মেসির জাদুতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনা ফুটবল দল বুধবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে প্রবেশ করেছে বলে রয়টার্স ও আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে। ৬৮,২৩৯ জন দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এক অনবদ্য লড়াইয়ের প্রদর্শন করে। খেলার প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইংল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের দুর্দান্ত একটি গোল ইংরেজদের এগিয়ে দেয় এবং তারা ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

খেলার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইংল্যান্ড এই লিড ধরে রাখতে সক্ষম হলেও লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে মেসির একটি নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা সূচক গোলটি করেন যা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়। এই গোলের পর ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয়বারের মতো জ্বলে ওঠেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অর্থাৎ ৯২তম মিনিটে মেসির বাড়ানো আরেকটি ক্রস থেকে চমৎকার হেডের সাহায্যে বদলি খেলোয়াড় লাউতারো মার্টিনেজ জয়সূচক গোলটি করেন।

এই অভাবনীয় জয়ের ফলে আগামী রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুইবার বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। এবার আর্জেন্টিনার সামনে সেই ঐতিহাসিক কীর্তি স্পর্শ করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি এই জয়ের মাধ্যমে তাঁর ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেন, যা ব্রাজিলের কিংবদন্তি খেলোয়াড় কাফুর পর দ্বিতীয় কোনো ফুটবলারের ক্ষেত্রে প্রথম ঘটল।

যা কম স্পষ্ট তা হলো এই চরম পরাজয়ের পর ইংল্যান্ড দলের অভ্যন্তরে কৌশলগত পরিবর্তন কী হবে এবং থমাস টুখেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কেমন দাঁড়াবে। দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই ম্যাচটিকে এক অন্যরকম রূপ দিয়েছিল এবং মাঠের উত্তেজনা গ্যালারিতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার পর আর্জেন্টিনা যেভাবে শেষ দশ মিনিটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই জয়ের পর আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচ শেষে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় দলের খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তির প্রশংসা করেছেন এবং এই জয়কে দেশের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে দলের কঠিন পরিস্থিতিতেও খেলোয়াড়েরা যেভাবে নিজেদের ওপর বিশ্বাস ধরে রেখেছিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। অন্যদিকে ইংরেজ শিবিরের জন্য এই পরাজয় ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক, কারণ দীর্ঘ ষাট বছর পর তাদের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন এভাবে শেষ মুহূর্তে ভেঙে যাবে তা কেউ কল্পনা করেনি। এখন ফুটবল বিশ্বের সমস্ত চোখ রবিবারের মেটলাইফ স্টেডিয়ামের দিকে যেখানে এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টের নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হবে।

banner
Link copied!