রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফর্মুলা ওয়ান বিতর্ক

হর্নার সব জায়গায় চাকরি খুঁজছেন‍‍` — ফেরারির প্রধান ভাসুর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

হর্নার সব জায়গায় চাকরি খুঁজছেন‍‍` — ফেরারির প্রধান ভাসুর

ক্রিশ্চিয়ান হর্নার নতুন চাকরি খুঁজতে গিয়ে ফেরারির কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির প্রধান ফ্রেডেরিক ভাসুর। শনিবার অনুষ্ঠিত আজারবাইজান গ্রাঁ প্রিতে ফেরারির চালক শার্ল ল্যক্লের চতুর্থ এবং লুইস হ্যামিল্টন ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। রেস পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভাসুর জানান, গণমাধ্যমের অন্তত অর্ধেক প্রশ্নই হর্নারকে কেন্দ্র করে হওয়ায় দলের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দলটি যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করতে লড়ছে, তখন গ্যারেজের কর্মীরাও প্রযুক্তিগত আলোচনার বদলে এই বিতর্ক নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছেন।

ফেরারির গ্যারেজে এখন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি চলছে।

হর্নারের সাথে ভবিষ্যতে কাজ করার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ভাসুর তীব্র ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই বিষয়ে তার সহকারীকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে রেড বুলের সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা নারী কর্মীর হয়রানি সংক্রান্ত বিতর্কিত পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেন। সে সময় এক নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানি ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রেড বুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও দলপ্রধানের পদ থেকে হর্নারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

রেড বুল অভ্যন্তরীণ দুটি তদন্তে অভিযোগ খারিজ করলেও দীর্ঘ ১৮ মাসের তীব্র অস্থিরতার পর তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার জেরে রেড বুলের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা আদ্রিয়ান নিউয়ে দল ত্যাগ করেন এবং মাঠের পারফরম্যান্সে বড় ধরনের ধস নামে। শেষ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ না করেই প্রায় ছয় কোটি ইউরো সমমূল্যের সমঝোতার মাধ্যমে হর্নারকে বিদায় করে রেড বুল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হর্নার দাবি করেন, শেয়ার বা মালিকানা না পেলেও তিনি ফেরারির হয়ে কাজ করতে রাজি আছেন এবং এই দলটিতে কাজ করা যেকোনো পরিচালকের জন্য স্বপ্নের মতো। তিনি ফেরারিকে ফর্মুলা ওয়ানের ঘুমন্ত দানব হিসেবেও অভিহিত করেন।

মাঠের পারফরম্যান্সেও ফেরারি দল বর্তমানে মারাত্মক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে নতুন চ্যাসিস ও ইঞ্জিন সংক্রান্ত নীতিমালা চালুর পর দলটির শিরোপা জয়ের বড় প্রত্যাশা ছিল। গাড়িটির মোড় ঘোরার ক্ষমতা চমৎকার হলেও মার্সিডিজ ও রেড বুলের তুলনায় ইঞ্জিনের গতিতে তারা স্পষ্ট ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে।

বাকু সার্কিটের দীর্ঘ ট্র্যাকে ইঞ্জিন শক্তির দুর্বলতা সরাসরি ধরা পড়ে। দ্বিতীয় স্থান থেকে রেস শুরু করলেও ইঞ্জিনের দুর্বলতার কারণে ল্যক্লের ক্রমান্বয়ে পেছনের সারিতে নেমে যান।

ভাসুর জানান, ইঞ্জিনের শক্তির ঘাটতির কারণে প্রতিটি ল্যাপে তাদের অবস্থান হারাতে হচ্ছে এবং রেসের পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে পড়ছে। বাকু সার্কিটে ইঞ্জিনের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হওয়ায় তারা প্রথম সারিতে পৌঁছানোর আশাই করেননি। ২০০৮ সালের পর দীর্ঘ সময় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা না পাওয়া ফেরারি দল চলতি মৌসুমে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ভাসুর জানান, অবশিষ্ট সাতটি রেসের শেষ কোণা পর্যন্ত তিনি নিজের দায়িত্বে অনড় থেকে দলের জন্য সর্বোচ্চ লড়াই চালিয়ে যাবেন।

banner
Link copied!