অধিকৃত গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অব্যাহত বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ এলাকায় অবস্থিত আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের চত্বরে একটি চিকিৎসা সামগ্রীর গুদামে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার ফলে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
শনিবার সংঘটিত এই হামলায় হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী ও তাবু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত তিনজন আহত হন। হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন যে, এই ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং চিকিৎসা সুবিধার সুরক্ষার সরাসরি লঙ্ঘন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী অবশ্য দাবি করেছে যে তারা ওই চত্বরে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, তবে এই দাবির সপক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে গাজা সিটির তাল আল হাওয়া এলাকায় আরেকটি পৃথক ড্রোন হামলায় একটি বাইসাইকেলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে অন্তত একজন নিহত এবং দুইজন আহত হন। আহতদের দ্রুত আল কুদস ফিল্ড হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে ফিলিস্তিনের ওয়াফা বার্তা সংস্থা জানিয়েছে। এর পাশাপাশি দেইর আল বালাহের পূর্বে আল মুসাসার গ্রামে পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় আরও একজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি ড্রোন থেকে বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও পুরো গাজা উপত্যকায় সামরিক আক্রমণ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে গত আটচল্লিশ ঘন্টায় ইসরায়েলি হামলায় মোট দশটি মৃতদেহ হাসপাতালে এসেছে, যার মধ্যে নয়জন নতুন নিহত এবং একজন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া এই সময়ের মধ্যে আটান্ন জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অনেক ভুক্তভোগী এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে বা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে আটকে আছেন, যেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পৌঁছাতে পারছেন না। অবরুদ্ধ এই জনপদে নিত্যপ্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানালেও পরিস্থিতির কোনো কার্যকর উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
