দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় উপাসনালয় এবং মসজিদগুলোকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের হামলা ও দমনপীড়ন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যানুযায়ী, সম্প্রতি নাবলুস সংলগ্ন মাদাভা গ্রামে এশার নামাজ চলাকালে একটি মসজিদে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বেশ কয়েকজন মুসল্লি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছয়ষট্টি বছর বয়সী নাঈম আহমেদ ফারাজ নামক এক বয়োবৃদ্ধ মুসল্লি মসজিদের ভেতরে টিয়ার গ্যাসের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। দ্রুত কোনো অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা না থাকায় তাকে গাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। এই ঘটনার পর স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ উপাসনালয়গুলো এখন আর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরায়েলি উগ্রপন্থী মন্ত্রীদের সরাসরি উসকানিতে এই ধরনের হামলাগুলো নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে প্রার্থনার সময়গুলোকে বেছে নিয়ে হামলা চালানো হয় যাতে মানুষের মধ্যে সর্বোচ্চ আতঙ্ক সৃষ্টি করা যায়। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমজুড়ে অবৈধ বসতিগুলোর লাগাতার সম্প্রসারণ এবং প্রধান সড়কগুলো বন্ধ থাকার কারণে ফিলিস্তিনি গ্রামগুলো কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে দখলকৃত ভূখণ্ডে প্রায় সাড়ে সাত লাখের বেশি অবৈধ বসতিস্থাপনকারী বসবাস করছে এবং ইসরায়েলি শীর্ষ নেতৃত্ব একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের ওপর উসকানিমূলক বক্তব্য ও শারীরিক আগ্রাসন আরও তীব্র রূপ ধারণ করেছে। এর আগে উগ্রপন্থী ইসরায়েলি রাজনীতিকদের কড়া অবস্থানের কারণে সংঘাতময় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে।
