নাইজেরিয়া সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠী বোকো হারামের মধ্যে গত তিন মাস ধরে একটি গোপন যুদ্ধবিরতি বজায় রয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। আল জাজিরার পরিবেশিত তথ্যানুযায়ী, দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ানের এক অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, যা নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতে একটি বিরল বিরতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ক্যামেরুন সীমান্তবর্তী এলাকার একটি গ্রাম থেকে অপহৃত তিন শতাধিক বেসামরিক নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে গত জুন মাস থেকে এই সমঝোতা কার্যকর হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বোকো হারামের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া তিনশ ষাট জন গ্রামবাসীকে গত মার্চ মাসে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার সময় অপহরণ করা হয়েছিল। এই জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে নাইজেরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে পাঁচশ কোটি নাইরা বা প্রায় ত্রিশ লক্ষ ডলারেরও বেশি অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে নাইজেরিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের কোনো অর্থ প্রদানের কথা অস্বীকার করেছে এবং আল জাজিরা স্বাধীনভাবে এই যুদ্ধবিরতি বা অর্থ লেনদেনের বিষয়টি যাচাই করতে পারেনি।
এই গোপন চুক্তির আওতাভুক্ত নয় ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স বা আইএসডব্লিউএপি, যা বোকো হারামের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে ওই অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে। ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে নাইজেরিয়া সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বোকো হারাম বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে যেকোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুভুর প্রশাসন সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করে দেশটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীতে হাজার হাজার নতুন সেনা নিয়োগ এবং নতুন বিভাগ চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বর্তমান এই সমঝোতা কোনো স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি না করে কেবল একটি কৌশলগত বা সাময়িক বিরতি হতে পারে, যা উভয় পক্ষই নিজেদের শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে পারে।
