ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে পূর্ণ সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি। রোববার এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা ইউনিটগুলোকে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবশিষ্ট ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তৃতির এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব সমর্থিত ইয়েমেনি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় চালানো অভিযানে শত শত হুতি যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
সামরিক উত্তেজনা এখন নতুন রূপ নিচ্ছে।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্রদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাইজ ও মারিবসহ একাধিক ফ্রন্টে আড়াই শতাধিক অভিযানের মাধ্যমে হুতিদের সামরিক স্থাপনা ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। অন্যদিকে সানায় অবস্থানরত রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও হুতিপন্থী কর্মী হুসেইন আল-বুখাইতি দাবি করেছেন, সরকার বাস্তব পরিস্থিতি থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন যে তাইজ ও এডেনের সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কটি বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাইজ প্রদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তার মতে, নতুন করে ব্যাপকভিত্তিক আন্তর্জাতিক স্থল বা নৌ অভিযান ছাড়া সরকারি বাহিনীর এ ধরনের ঘোষণা পরিস্থিতির কোনো বড় পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না।
এদিকে আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান জানানো হয়েছে। দেশটির প্রধান মধ্যস্থতাকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সময়ক্ষেপণ করার সুযোগ আর নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইসলামাবাদে সম্মত হওয়া সাত দফা চুক্তি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে চলা উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
একই সময়ে গাজা উপত্যকার বেসামরিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য তিন হাজার ১৮৫ টনের বেশি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের একটি নতুন সাহায্যবহর সেখানে প্রবেশ করেছে। এই ত্রাণবহরে রয়েছে খাদ্য, পানীয়, হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম।
ত্রাণ পাঠানো হলেও সামগ্রিক চিকিৎসাব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির প্রতিনিধি রেইনহিল্ড ভ্যান ডি উইর্ডট জানিয়েছেন, জ্বালানি ও অতিপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর অভাবে উপত্যকার কোনো হাসপাতালই এখন পুরোপুরি সেবা দিতে পারছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ত্রাণ হিসেবে পাঠানো চিকিৎসা সামগ্রীগুলো অনুমোদনের জন্য গড়ে ৭৪ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং এক্স-রে মেশিনের মতো জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জামগুলো প্রায়ই আটকে দেওয়া হচ্ছে।
