সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। রয়টার্স ও আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, এই হামলায় স্থাপনাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর কূটনৈতিক তৎপরতা এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
হামলার প্রকৃত উৎস বা কোন গোষ্ঠী এর পেছনে রয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং সেদেশের জনগণের প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন।
শাহবাজ শরিফ তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের সংঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চলমান বা সম্ভাব্য সব ধরনের যুদ্ধবিরতি অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। এই ধরনের আক্রমণ শুধু একটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত নয়, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলে।
আহত তিন ভারতীয় নাগরিকের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত চিকিৎসা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তেল শোধনাগারে লাগা আগুন দ্রুততম সময়ে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং আমিরাতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই দ্রুত ও সুস্পষ্ট নিন্দার পেছনে ইসলামাবাদ ও আবুধাবির দীর্ঘদিনের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক কাজ করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে লাখ লাখ পাকিস্তানি ও ভারতীয় প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনো নিরাপত্তাজনিত সংকট সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি এবং প্রবাসীদের জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে।
শাহবাজ শরিফ তার বার্তায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আল জাজিরার বিশ্লেষণেও উল্লেখ করা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে।
পাকিস্তান সরকার আশা প্রকাশ করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সহায়তা করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ সংযম প্রদর্শন করবে। পরিস্থিতি নিয়ে আমিরাত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক বড় কোনো ব্রিফিং করেনি। বিস্তারিত তথ্য সামনে আসার সাথে সাথে আঞ্চলিক কূটনীতিতে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।
