মঙ্গলবার, ০৫ মে, ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩

আরব আমিরাতে ইরানের হামলা, হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ৫, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

আরব আমিরাতে ইরানের হামলা, হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক অবকাঠামো ও একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দরে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে ঘোষিত দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সোমবার রাতে আমিরাতের আকাশসীমায় বেশ কিছু ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্ট করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউএই কর্তৃপক্ষ। তবে একটি তেলের জেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় ওই এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে এই সংকটের কথা জানিয়েছে।

এই হামলার ঘটনার পরপরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন যে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আলোচনার কূটনৈতিক পথ প্রশস্ত রাখতে যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং একে সম্মান করা অত্যন্ত জরুরি। পাকিস্তান এই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসকে জানিয়েছেন যে, উভয় পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার করে কূটনীতির পথে থাকা উচিত। তবে রোববারের হামলার ঘটনা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংকট এখন বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অবরোধ করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, তিনি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার জন্য মার্কিন নৌবাহিনীকে এসকর্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করলেও পরিস্থিতির যেকোনো অবনতি ঘটলে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার জন্য ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবফ উপস্থিত ছিলেন। তবে ওই আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অমীমাংসিত ইস্যুগুলোই এই ব্যর্থতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরপর ট্রাম্প আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বললেও বর্তমান হামলার ঘটনা সেই মেয়াদকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে শক্তি প্রয়োগ করে খুলে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছে এখনো বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। এমনকি গত মার্চ মাসে বিমান হামলা থেকে বাঁচতে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা অনেক সরঞ্জাম তারা নতুন করে সক্রিয় করেছে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে। ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন রণতরিগুলোর জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কেবল সামরিক শক্তি নয় বরং ইরানের মাইনিং, ক্ষেপণাস্ত্র এবং টর্পেডো হামলার হুমকি বন্ধে একটি কার্যকর চুক্তির মাধ্যমেই এই সংকটের সমাধান সম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

banner
Link copied!