যুক্তরাজ্যের সুপরিচিত ইলেকট্রনিক্স খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কারিসের বিদায়ী প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ব্যালডক এবার দেশটির ১৭৭ বছরের পুরনো বিখ্যাত ওষুধ ও প্রসাধন সামগ্রী বিক্রেতা চেইন বুটসের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুটস কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যালডককে তাদের নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। লন্ডনের শেয়ারবাজারে বুটসকে একটি বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করার তোড়জোড় চলছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় ৭ বিলিয়ন পাউন্ডে籲উন্নত করতে ব্যালডকের ব্যবসায়িক দূরদর্শিতাকে কাজে লাগাতে চায় এর বর্তমান মালিকপক্ষ। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে কারিস থেকে ব্যালডকের पदত্যাগের ঘোষণায় পুঁজিবাজারে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম প্রায় ১১ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল, যা তার ব্যবসায়িক সফলতার প্রমাণ দেয়।
ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহ্যবাহী কিন্তু বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে পড়া খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় লাভজনক করে তোলার ক্ষেত্রে ব্যালডকের গত সাত বছরের চমৎকার ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালে যখন কারিসের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছিল। বিশেষ করে কারিসের মোবাইল বিভাগটি পুরো গ্রুপের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ব্যালডক দায়িত্ব নেওয়ার পর অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেই মোবাইল বিভাগের আকার ছোট করেন এবং পরিচালন ব্যয় কমিয়ে একে একটি লাভজনক খাতে রূপান্তর করেন। খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কারিসকে কেবল পণ্য বিক্রির গণ্ডি থেকে বের করে একটি সমন্বিত সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার মূল কৃতিত্ব তারই।
লন্ডনভিত্তিক বেরেনবার্গ ব্যাংকের খুচরা খাত বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক অ্যাডাম টমলিনসন জানিয়েছেন, ব্যালডকের ব্যবসায়িক কৌশলের অন্যতম প্রধান দিক ছিল কারিসের অনলাইন বিক্রির প্রবৃদ্ধি বাড়ানো এবং ওমনিচ্যানেল মডেল জোরদার করা। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য কিস্তি সুবিধা, মেরামত সেবা, ওয়ারেন্টি এবং পুরোনো পণ্য পরিবর্তনের মতো আকর্ষণীয় সেবা চালু করা হয়। এর পাশাপাশি তিনি কর্মীদের কর্মপরিবেশের উন্নয়নে অভূতপূর্ব মনোযোগ দিয়েছিলেন। ব্যালডকের একটি বিখ্যাত মূলমন্ত্র ছিল যে কোনো প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবার মান কখনোই তার কর্মীদের সন্তুষ্টির মাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না। বুটসের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে তাকে অবিকল এই ধরনের একটি কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
২০১৪ সালে বুটসকে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি ওয়ালগ্রিনস বুটস অ্যালায়েন্সের সঙ্গে একীভূত করার পর থেকেই এই ব্রিটিশ চেইনটি একের পর এক দোকান বন্ধ, ক্রমাগত পুনর্গঠন এবং পুরোনো ধাঁচের ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসার সংকটে ভুগছে। ২০২২ সালে ওয়ালগ্রিনস এটিকে বিক্রির চেষ্টা করলেও প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান ঋণের খরচের কারণে উপযুক্ত দাম না পেয়ে পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে গত বছর ব্যক্তিমালিকানাধীন ইকুইটি ফার্ম সাইকামোর পার্টনার্স প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ওয়ালগ্রিনস বুটস অ্যালায়েন্স কিনে নেয়। সাইকামোর এই গ্রুপটিকে পাঁচটি স্বতন্ত্র সংস্থায় বিভক্ত করে বুটসকে আলাদা করে। ভেতরের সূত্রগুলো দাবি করছে, বুটসকে যুক্তরাজ্যের স্টক মার্কেটে ফিরিয়ে আনার চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়েই মূলত ব্যালডককে এই গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
