ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার বা ওআইসির একটি বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে বাগদাদ সফর করবেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে তুরস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ওআইসির ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্ব ইরাকের কাছে হস্তান্তর করবে।
শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে সংলাপ ও সংহতি এই দুটি অপরিহার্য স্তম্ভ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের একান্নতম অধিবেশনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে ওআইসির ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছে তুরস্ক।
বাগদাদের বৈঠকে গাজায় ইসরায়েলের চলমান নীতি এবং ফিলিস্তিনজুড়ে তাদের ভূখণ্ড দখলের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া মুসলিম বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলসমূহ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, জাতিসংঘ সংস্কার, ইসলামোফোবিয়া এবং সদস্য নয় এমন রাষ্ট্রে মুসলিম সম্প্রদায়ের বর্তমান পরিস্থিতিও আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে। বৈঠক শেষে একটি যৌথ ঘোষণা বা বাগদাদ ডিকলারেশন গৃহীত হওয়ার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে একটি ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি সাইডলাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন হাকান ফিদান। মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, তিনি বৈঠকে তুলে ধরবেন যে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন। মুসলিম দেশগুলোকে একতাবদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানাবেন তিনি।
যেসব দেশ তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন ফিদান। স্থায়ী শান্তির জন্য দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করবেন। পাশাপাশি গাজায় কোনো বাধা ছাড়াই মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জোর দাবি জানাবেন তিনি।
আঞ্চলিক নানা সংকট প্রসঙ্গে ফিদান সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে দেশটির অখণ্ডতা রক্ষা ও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানাবেন। লেবাননের ক্ষেত্রে দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলবেন যে ইসরায়েলকে অবশ্যই দক্ষিণাঞ্চল থেকে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা নিয়েও কথা বলবেন ফিদান এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করবেন তিনি। হরমুজ প্রণালী ও বাব এল মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সাধারণ মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হুথি বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানাবেন এবং সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবেন।
মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ওআইসি। ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত এই সংস্থাটি জাতিসংঘের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তঃসরকার সংস্থা। তুরস্ক এই সংস্থার পঁচিশটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একটি এবং এর বেশ কয়েকটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যেমন স্যাসরিক, আরসিকা, কমসেক এবং আইসিওয়াইএফের সদর দপ্তর তুরস্কেই অবস্থিত।
