কৈশোরে বিক্ষোভ ও জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে সৌদি আরবে এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার উপক্রম হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে। সহিংসতামুক্ত অপরাধে দেশটির মৃত্যুদণ্ড বাড়ানোর প্রবণতার আরেকটি দৃষ্টান্ত এই মামলা।
,ইউসুফ আল-মানাসিফকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০১৭ সালে। শিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে মিছিলে যোগ দেওয়া এবং রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত জানাজায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। সন্ত্রাসবাদের মামলা পরিচালনাকারী গোপন বিশেষায়িত অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়।
,মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রিভ জানিয়েছে, আল-মানাসিফের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল এবং জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পাঁচ বছর পর ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো তিনি রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর দেখা পান।
সৌদি সুপ্রিম কোর্ট আল-মানাসিফের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছে বলে জানা গেছে। মৃত্যুদণ্ড এড়ানোর ক্ষেত্রে এটিই সম্ভবত তার আইনি লড়াইয়ের শেষ সুযোগ।
,গ্রেপ্তার বা হয়রানির ভয়ে আল-মানাসিফের আত্মীয়স্বজন জনসমক্ষে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন। রিপ্রিভ ও ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের কনসালটেন্ট দুয়া ধাইনি জানিয়েছেন, পরিবারটির এখন শুধু অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
,যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মীরা। গত বছর দেশটিতে ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর একটি বড় অংশে রয়েছে সহিংসতামুক্ত মাদক মামলায় দণ্ডিত বিদেশি নাগরিকরা।
,রিপ্রিভের তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
,অপ্রাপ্তবয়স্কদের মৃত্যুদণ্ড রহিত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালে একটি রাজকীয় ডিক্রি জারি করেছিল সৌদি আরব। ওই ডিক্রিতে বলা হয়েছিল, আঠারো বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না।
,এমন ঘোষণা সত্ত্বেও আদালতগুলো শিশু আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চলেছে। গত এপ্রিল মাসে আলী আল-সুবাইতি এবং তার চাচা মোস্তফা আল-সুবাইতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আলীর বয়স যখন বারো বছর, তখন সংঘটিত অপ্রাণঘাতী অপরাধের জন্য তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছিল।
,জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এর আগেও আল-মানাসিফকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আঠারো বছরের কম বয়সে সংঘটিত অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন সৌদি আরবের প্রতি।
,দুয়া ধাইনি মন্তব্য করেছেন যে, ভিন্নমত দমনে এবং নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করছে শাসকগোষ্ঠী। অপ্রাণঘাতী ওৈশারের অপরাধে আল-মানাসিফকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাটিকে বিবেকহীন ও অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ বলে অভিহিত করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
