লস অ্যাঞ্জেলেস ডজার্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ ৪৪ বছর পর প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড সিরিজে জায়গা করে নিয়েছে মিলওয়াকি ব্রুয়ার্স। এই জয়ে ন্যাশনাল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজে চার ম্যাচের ক্লিয়ার সুইপ বা ধবলধোলাই সম্পন্ন হলো।
ম্যাচে জ্যাক বাওয়ার্সের দুই রানের একটি ডাবল দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করে মিলওয়াকি। এরপর গ্যারেট মিচেল একটি লিড-টেকিং হোম রান করে গত মৌসুমের প্রতিশোধ নেন, যখন ডজার্সরা ঠিক একই পর্বে ব্রুয়ার্সকে ক্লিন সুইপ করেছিল।
ব্রুয়ার্সের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ান ইয়েলিচ বলেন, আমরা রাতে শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিলাম এবং ভেবেছিলাম এটি দারুণ এক গল্প হতে চলেছে। আমরা ফিরে এসে এটি জিতব। সবাই একসঙ্গে থেকে রান কমানোর কাজ শুরু করেছি। এবং ঠিক সেটাই তারা করেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যানেজার ডেভ রবার্টস স্বীকার করেছেন যে তার দল পুরো সিরিজ জুড়েই মার খেয়েছে। এর আগে ডজার্সরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মেজর লিগ বেসবল চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল।
রবার্টস বলেন, দিন শেষে আমরা হেরে গেছি। সব বিভাগেই আমরা পিছিয়ে ছিলাম। তারা নিখুঁত খেলেছে। রক্ষণভাগে তারা আমাদের চেয়ে ভালো বোলিং করেছে, আমাদের চেয়ে ভালো ব্যাটিং করেছে, আমাদের চেয়ে বেশি শক্তি দেখিয়েছে। মাঝে মাঝে কেবল টুপি খুলে সম্মান জানাতে হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসের হয়ে লিডঅফ পজিশনে ফিরে দ্বিতীয় ইনিংসে একটি তিন রানের হোম রান করেন শোহেই ওহানি। এর আগে অ্যান্ডি পেজেস প্রথম রান এনে দিয়ে ৪-০ ব্যবধান গড়ে দিয়েছিলেন, তবে হাঁট ও পেশির অস্বস্তির মধ্যে থাকা ওতানি তিনবার স্ট্রাইকআউটও হন।
চতুর্থ ইনিংসে ডজার্সের শুরুর বোলার টাইলার গøাসনাউয়ের বিপক্ষে জ্যাক বাওয়ার্স দুই রানের গ্রাউন্ড-রুল ডাবল হাঁকালে ব্যবধান কমতে শুরু করে মিলওয়াকির। এরপর পঞ্চম ইনিংসে ডেভিড হ্যামিল্টন একটি আরবিআই সিঙ্গেল দিয়ে ব্যবধান ৪-৩ এ নামিয়ে আনেন এবং এর মাধ্যমেই গøাসনাউয়ের বোলিং স্পেলের সমাপ্তি ঘটে।
রিলিফ বোলার ইভান ফিলিপস দুটি ওয়াক দিয়ে দুই আউট রেখেই বেস লোড করে ফেলেন। ফিলিপসের বদলে মাঠে নামা অ্যালেক্স ভেসিয়া চার বলে বাওয়ার্সকে ওয়াক দিলে স্কোর ৪-৪ এ সমতাটায় ফেরে।
ষষ্ঠ ইনিংসে বদলি বোলার ট্যানার স্কটকে প্রথম বলেই হোম রান হাঁকিয়ে ব্রুয়ার্সকে স্থায়ীভাবে এগিয়ে নেন মিচেল। নবম ইনিংসে এডউইন ডিয়াজের বিপক্ষে একটি একক হোম রান করে খেলার চূড়ান্ত স্কোর নিশ্চিত করেন হ্যামিল্টন।
catcher উইলিয়াম কনট্রেরাসের নির্দেশনায় বুলপ গেমের শেষ সাত ইনিংসে মিলওয়াকির চার বোলার মিলে ডজার্সকে কোনো রান তুলতে দেননি। অ্যারন অ্যাশবি শেষ তিন ফ্রেম বল করে পোস্টসিজনে তার দ্বিতীয় সেভ অর্জন করেন।
অ্যাশবি বলেন, আমরা একটা ক্ষোভ বা জেদ নিয়ে খেলেছি। গত বছরের মতো সিরিজে নামলে আপনি আগে থেকে কিচ্ছু বুঝতে পারবেন না। আপনি জানেন না পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে, আর সেদিন অবস্থা সত্যিই ভীষণ খারাপ হয়েছিল। কিন্তু আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বেঁচেছি এবং এই বছর ফিরে এসে সবাই নিজের সবটুকু উজাড় করে খেলেছে।
ওয়ার্ল্ড সিরিজে মিলওয়াকির প্রতিপক্ষ হবে টাম্পা বে রেস অথবা ক্লিভল্যান্ড গার্ডিয়ানস দল।
