যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে নতুন অর্থনৈতিক তথ্য। গত জুলাই মাসে দেশটিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার সামান্য হ্রাস পেয়ে তিন দশমিক চার শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি নিউজ। এর আগের মাসে এই হার ছিল তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ। মূলত খাদ্যপণ্যের দামের গতি ধীর হওয়া এবং জ্বালানি খাতে খরচ কিছুটা কমার ফলেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগের মাসের তুলনায় জুলাই মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবাসন খাতের ব্যয় বৃদ্ধি এর পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। পরিবারের মাসিক খরচের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ভাড়ার খরচ, ফলে ভাড়ার সামান্য পরিবর্তনও সামগ্রিক সূচকে বড় প্রভাব ফেলে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে চলা চড়াই-উতরাইয়ের পর সাধারণ ভোক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও জ্বালানি কেনাকাটায় কিছুটা নিশ্বাস ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন।
খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে জুলাই মাসে দাম বৃদ্ধির গতি আগের মাসের তুলনায় বেশ মন্থর ছিল। এর পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারেও কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সাহায্য করেছে। তবে খাদ্য ও জ্বালানি খাত বাদ দিলে কোর মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক দুই শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসা সেবা এবং বিমান টিকিটের দাম কিছুটা বাড়লেও গাড়ি বিমার খরচ কমতির দিকে থাকায় সার্বিক সূচকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
নতুন ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান কেভিন ওয়ারশ সম্প্রতি স্পষ্ট করেছেন যে অর্থনীতির অপ্রয়োজনীয় ধাক্কা এড়ানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতিকে নিচের দিকে নামিয়ে আনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মনে করেন যে সাধারণ পরিবারের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে বাড়িভাড়া এবং মুদির দোকানের বিল নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন থাকায় জীবনযাত্রার খরচ কমানো বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থনীতিতে এই সামান্য স্বস্তি এলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলার জটিলতা নিয়ে সংশয় কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং মূল্যস্ফীতির এই পরিসংখ্যান ভবিষ্যতে সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভের নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচকরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
