বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

জ্বালানি দাম কিছুটা কমায় জুলাই মাসে কমেছে মার্কিন মূল্যস্ফীতি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

জ্বালানি দাম কিছুটা কমায় জুলাই মাসে কমেছে মার্কিন মূল্যস্ফীতি

যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের জুলাই মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা ও মার্কিন শ্রম বিভাগের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস। জ্বালানি তেলের দামে সাময়িক পতন এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার আশাবাদের কারণে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে সামগ্রিক সরবরাহ শৃঙ্খলার জটিলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে অর্থনীতিতে এখনো বড় ধরনের অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে।

শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে মাসিক ভিত্তিতে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই হার ছিল তিন দশমিক চার শতাংশ। চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে আসছে, যা মূলত জ্বালানি বাজারের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলে চলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি পণ্যের দাম গত মাসে কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বার্ষিক হিসাবে তা এখনও অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। টাফটস ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিষয়ক অধ্যাপক মাইকেল ক্লেইন আল জাজিরাকে জানান যে হরমুজ প্রণালির অবরোধ শেষের আশায় জুলাই মাসে জ্বালানির দাম সাময়িকভাবে নিম্নমুখী হয়েছিল, কিন্তু সেই আশা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম গত সপ্তাহে কিছুটা কমলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে, যেখানে জুলাই মাসে সামান্য শূন্য দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও গত বছরের তুলনায় তা তিন শতাংশ বেশি ছিল। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সাম্প্রতিক হতাশাজনক পরিসংখ্যান এবং চাকরির বাজারে স্থবিরতা ফেডারেল রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত জুলাই মাসে সুদের হার তিন দশমিক পাঁচ থেকে তিন দশমিক সাতাশি শতাংশের মধ্যে বজায় রেখেছিল।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে নাকি অপরিবর্তিত রাখা হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। নতুন ফেডারেল রিজার্ভ প্রধান কেভিন ওয়ারশের অধীনে এটি হবে তৃতীয় নীতি নির্ধারণী সভা। দুই শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

banner
Link copied!