নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত নয়শ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে উদ্ধারকর্মীরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার ভোরে ত্রিশূলী এলাকায় একটি সুড়ঙ্গের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এর মাধ্যমে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দেশজুড়ে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সাইট থেকে প্রায় সাড়ে নয়শ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। সব মিলিয়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে তিন হাজার ছয়শর বেশি নেপালি নাগরিক এবং প্রায় ছয়শ বিদেশি নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বিপর্যয় মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলোর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে যেসব এলাকার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে, সেখানে উদ্ধার করা মৃতদেহগুলোর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হচ্ছে। চিতওয়ানসহ বিভিন্ন স্থানে প্রিয়জন হারানো মানুষের শোকাবহ দৃশ্য দেখা গেছে।
সীমান্তবর্তী তিব্বত অঞ্চলেও এই বন্যার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে অন্তত ষোল জনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। এদিকে অনলাইন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দশ জন ব্যক্তিকে আইনি শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলেও দুর্গম এলাকাগুলোর কারণে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
