বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ওজেম্পিকের জেনেরিক অনুমোদন দিল কানাডা: বিপাকে মার্কিন রোগীরা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৪, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

ওজেম্পিকের জেনেরিক অনুমোদন দিল কানাডা: বিপাকে মার্কিন রোগীরা

কানাডা সম্প্রতি জি-৭ ভুক্ত প্রথম দেশ হিসেবে জনপ্রিয় ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিক-এর জেনেরিক বা সহজলভ্য সংস্করণের অনুমোদন দিয়েছে, রয়টার্স ও বিবিসি নিউজ জানিয়েছে। ডায়াবেটিস ও ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকরী এই ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ বাজারে আসায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ওটোয়া শহরের বাসিন্দা ৬৯ বছর বয়সী এলিজাবেথ ডোরান প্রায় এক বছর ধরে ওজন কমানো এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য উইগোভি নামক একটি জিএলপি-১ গ্রুপের ওষুধ গ্রহণ করছেন। তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত না হওয়ায় এবং কেবল প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে থাকায় তাকে ওজেম্পিকের বদলে উইগোভি দেওয়া হয়েছিল। উভয় ওষুধেই সেমাগ্লুটাইড নামক মূল উপাদান রয়েছে। তিনি বিবিসিকে জানান যে তিনি ডায়াবেটিস হওয়া থেকে সামান্য দূরে ছিলেন।

যেহেতু তার ডায়াবেটিস ছিল না, তাই কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যবিমা তার এই ওষুধের খরচ বহন করেনি। এর ফলে তাকে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫০ থেকে ৫০০ কানাডীয় ডলার নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হতো। এই ব্যয়বহুল ওষুধের খরচ মেটাতে ডোরানকে মাসে কয়েকবার অতিরিক্ত শিক্ষকতার কাজ করতে হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক-এর দেওয়া কিছু ছাড়ের সুবিধাও নিয়েছেন। তবে নতুন জেনেরিক ওষুধ আসার পর তাকে আর এত বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

গত মে মাসে কানাডার স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হেলথ কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে সেমাগ্লুটাইড ইনজেকশনের জেনেরিক সংস্করণের অনুমোদন দেয়। মূলত টাইপ-২ ডায়াবেটিসের জন্য তৈরি হলেও চিকিৎসকরা অনেক সময় এটি ওজন কমানোর জন্যও লিখে থাকেন। জুন মাসের শুরু থেকেই সারা দেশের ফার্মেসিগুলোতে এই জেনেরিক ওষুধগুলো পাওয়া যাচ্ছে এবং এর দাম মূল ওষুধের এক-তৃতীয়াংশের চেয়েও কম। হেলথ কানাডা ইতোমধ্যে ভারতীয় কোম্পানি ড. রেড্ডিস এবং কানাডীয় কোম্পানি অ্যাপোটেক্স-এর তৈরি জেনেরিক ওজেম্পিক অনুমোদন করেছে।

কানাডায় প্রায় ৩০ লাখ মানুষ বর্তমানে জিএলপি-১ গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করেন। জেনেরিক সংস্করণ আসায় এখন আরও বেশি মানুষ এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই প্রতিযোগিতার কারণে মূল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্কও ইতোমধ্যে তাদের ব্র্যান্ডেড ওষুধের দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে। ভারতের বাজারে চলতি বছরেই বেশ কিছু সস্তা সংস্করণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার ফলে সেখানে নভো নরডিস্ক তাদের ওজেম্পিক এবং উইগোভির দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশটিতে বিমাহীন রোগীদের জন্য এক মাসের ওজেম্পিকের খরচ এক হাজার মার্কিন ডলারের বেশি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্যাটেন্ট আইনের কারণে আগামী কয়েক বছর সেখানে এই ওষুধের কোনো জেনেরিক সংস্করণ আসার সম্ভাবনা নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রোগীরা এখন কম দামে ওষুধ পেতে কানাডার ওপর নির্ভর করতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় দেড় কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ইনিশিয়েটিভ ফর মেডিসিনস, অ্যাকসেস অ্যান্ড নলেজ-এর প্রধান তাহির আমিন জানান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর আইন অনুযায়ী কোম্পানিগুলো চাইলে তাদের ওষুধের প্যাটেন্টের মেয়াদ কয়েক বছর বাড়িয়ে নিতে পারে। এর ফলে ২০৩২ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জেনেরিক সেমাগ্লুটাইড আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। যা কম স্পষ্ট তা হলো নভো নরডিস্ক কেন কানাডায় তাদের প্যাটেন্ট নবায়ন করেনি। প্যাটেন্ট টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ২৫০ কানাডীয় ডলার ফি জমা না দেওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও নভো নরডিস্ক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি তাদের নির্দিষ্ট প্যাটেন্ট সময়সূচী ও কানাডার নিয়ন্ত্রক পরিবেশের কারণে হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তাদের একচেটিয়া অধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে।

এর আগেও কম দামে ওষুধ কিনতে মার্কিন নাগরিকরা কানাডায় এসেছেন। ২০১৯ সালে ডায়াবেটিসের ইনসুলিন কিনতে অনেক মার্কিন নাগরিক দল বেঁধে কানাডায় এসেছিলেন। কানাডার তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাড্রিয়ান ডিক্স জানিয়েছিলেন, কানাডার রোগীদের জন্য আনা ওজেম্পিক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়।

banner
Link copied!