বিশ্বখ্যাত বক্সিং কিংবদন্তি মুহাম্মদ আলীর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মশহর লুইভিলে এক বিশ্বব্যাপী মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ৩ জুন পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর মৃত্যুবরণ করেন ক্রীড়া জগতের এই অবিসংবাদিত মহানায়ক। আলীর স্মৃতি ও आदर्शকে ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠিত ‘মুহাম্মদ আলী সেন্টার’ এই বছর ৩ জুনকে বিশ্বব্যাপী ‘দয়া ও সহানুভূতি দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়।কিংবদন্তি এই অ্যাথলেটের চলে যাওয়ার এক দশক পূর্ণ হলো আজ।
মুহাম্মদ আলীর স্ত্রী এবং আলী সেন্টারের আজীবন পরিচালক লনি আলী এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার স্বামীর জীবন কেবল বক্সিং রিং বা অলিম্পিক স্বর্ণপদকের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি এর চেয়ে অনেক উঁচুতে অবস্থান করতেন। মানুষের সেবা করাকে তিনি জীবনের মূল লক্ষ্য মনে করতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানবসেবাই হলো আমাদের পরিশোধযোগ্য ভাড়া। লনি আলী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্ব ক্রমান্বয়ে নিজস্ব মানবিক मूल्यবোধ ও পারস্পরিক সংযোগ হারিয়ে ফেলছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শের ভিন্নতার কারণে মানুষ এখন চরমভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ছে এবং নিজেদের মতন মানুষের বাইরে গিয়ে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা দিন দিন কমছে।
এই স্মারক দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে মানুষকে স্বেচ্ছাসেবা এবং সহমর্মিতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করা, যা মুহাম্মদ আলীর জীবনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ছিল। ১৯৬০-এর দশকে নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থানের কারণে আলী বিশ্বজুড়ে অধিকারবঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত হন। লনি আলী বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার এবং ১৯৬৫ সালের ঐতিহাসিক ভোটাধিকার আইনকে দুর্বল করার মতো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ছাড়া একটি সমতাভিত্তিক সমাজ বা কমিউনিটি গড়ে তোলা অসম্ভব।
দশ বছর আগে লুইভিলের রাস্তায় আলীর শেষযাত্রায় যেভাবে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিল, সেই স্মৃতি এখনো মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। বর্তমানে মার্কিন ডাক বিভাগ আলীর প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে, যা তার আদর্শের সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার আরেকটি বড় প্রমাণ। সাধারণ ভক্ত থেকে শুরু করে রাজপরিবারের সদস্য — সবার হৃদয়েই মুহাম্মদ আলী তার অসীম সাহস ও সেবামূলক কাজের মাধ্যমে বেঁচে আছেন এবং আগামীতেও থাকবেন।
