ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত (Special Rapporteur) ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক। বৃহস্পতিবার (১৪ মে ২০২৬) মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ রিচার্ড লিওন এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। রায়ে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আলবানিজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আলবানিজের ওপর এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করা এবং ওয়াশিংটনের ইসরায়েল-নীতির কড়া সমালোচনা করার দায়ে তাঁকে এই শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং সেখানে ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আলবানিজের স্বামী ও কন্যা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার কারণেই আলবানিজকে ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বুধবারের আদেশে বিচারক লিওন এই যুক্তিকে সমর্থন জানিয়ে নিষেধাজ্ঞার ওপর একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা (Preliminary Injunction) জারি করেন।
আদালতের মেমোরেন্ডাম ওপিনিয়নে বিচারক রিচার্ড লিওন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন:
"আলবানিজ কেবল কথা বলেছেন, এর বাইরে তিনি কিছুই করেননি। এটা অনস্বীকার্য যে তাঁর দেওয়া সুপারিশগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না—এগুলো কেবলই তাঁর ব্যক্তিগত মতামত। ট্রাম্প প্রশাসন কেবল তাঁর মতাদর্শ বা বার্তার কারণে তাঁর বাকস্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে।"
বিচারক আরও যোগ করেন যে, কোনো বিশেষ মত প্রকাশের জন্য কারো ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা মার্কিন সংবিধানের চেতনা বিরোধী। আলবানিজের আইনি কাজগুলো মূলত তাঁর দাপ্তরিক দায়িত্বের অংশ, যা কোনোভাবেই মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে না।
রায়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের আনন্দ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তিনি বলেন, "আমার স্বামী ও কন্যাকে ধন্যবাদ যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং যারা এই পর্যন্ত সাহায্য করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমরা সবাই এক।"
আলবানিজ এর আগেও বলেছিলেন যে, মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা মূলত তাঁর মিশনকে দুর্বল করার জন্য একটি পরিকল্পিত চাল। তবে আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে তিনি আবারও বিশ্বমঞ্চে তাঁর কাজ চালিয়ে যাওয়ার আইনি সুরক্ষা পেলেন। এই রায়কে মানবাধিকার কর্মীদের জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যারা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিন ইস্যুতে কথা বলছেন। ওয়াশিংটন এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
