রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ঈমান বিধ্বংসী দশটি কাজ: ইসলামি বিধান ও সতর্কবার্তা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুলাই ১৫, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

ঈমান বিধ্বংসী দশটি কাজ: ইসলামি বিধান ও সতর্কবার্তা

ঈমান বা বিশ্বাস একজন মুসলিমের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের বিভিন্ন নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং সেই সাথে ঈমান নষ্ট হতে পারে এমন কাজগুলো থেকেও সতর্ক করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আলেম ও ইসলামি স্কলাররা ঈমান বিধ্বংসী দশটি সুনির্দিষ্ট কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা একজন মুসলিমের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি। এই কাজগুলো মূলত একজন মানুষের আকিদা বা বিশ্বাসের ভিত নষ্ট করে দেয়।

ঈমান ভঙ্গের প্রথম ও প্রধান কারণ হলো আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক বা অংশীদার করা। মানুষের কথা, কাজ, আকিদা বা ইবাদতের ক্ষেত্রে শিরক হতে পারে। পবিত্র কুরআনে একে সবচেয়ে বড় জুলুম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে (সূরা আল-বাকারা, ২:১৫৫)। তওবা না করে শিরক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে জান্নাত হারাম হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ এবং বান্দার মাঝে কোনো পীর, মাজার বা অন্য কোনো সত্তাকে মাধ্যম হিসেবে দাঁড় করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা ইসলামের স্পষ্ট আকিদা বিরোধী কাজ করেন, তাদের ঈমান হুমকির মুখে পড়ে।

তৃতীয়ত, অবিশ্বাসীদের কাফির মনে না করা বা অন্য কোনো ধর্মকে ইসলামের সমতুল্য বা সঠিক মনে করা ঈমান নষ্টের কারণ। এছাড়া চতুর্থ কারণ হিসেবে দেখা হয় কোনো মানুষের তৈরি আইনকে ইসলামের বিধানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা। যদি কেউ মনে করে যে আল্লাহ প্রদত্ত আইন বর্তমান যুগের জন্য প্রযোজ্য নয়, তবে সেটি ঈমান ধ্বংস করে দেয়। পঞ্চম কারণ হলো, ইসলামের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান পালন করার পরও তার প্রতি মনে বিদ্বেষ পোষণ করা বা তা সেকেলে মনে করা। নামাজ বা রোজার মতো ফরজ বিধানের প্রতি অবজ্ঞাও ঈমান বিধ্বংসী।

ষষ্ঠত, দ্বীনের কোনো অংশ বা সুন্নাত নিয়ে সামান্য ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা সরাসরি ঈমান নষ্ট করে। দাড়ি রাখা, ইসলামি পোশাক বা ইবাদতের যেকোনো বিধান নিয়ে হাসি-তামাশা করা ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী অপরাধ। সপ্তম কারণ হলো জাদুবিদ্যা বা তন্ত্রমন্ত্রের চর্চা করা। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালো করা বা যেকোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জাদুটোনা করা ইসলামে হারাম এবং তা কুফরির অন্তর্ভুক্ত।

অষ্টম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে অবিশ্বাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং তাদের সাহায্য করা, যাতে ইসলামের ক্ষতি হয়। নবম কারণ হলো, ইসলামের মৌলিক জ্ঞান অর্জন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। যারা মনে করে ইসলামি শরীয়ত জানা বা মানা তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তাদের আকিদা ভুল। সর্বশেষ দশম কারণ হলো, সমাজে এমন ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করা যে কিছু বিশেষ মানুষ শরীয়তের ঊর্ধ্বে। এই দশটি কাজ থেকে বেঁচে থাকা একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। নিজের ঈমানকে সুরক্ষিত রাখতে এবং সঠিক পথে চলতে নিয়মিত দ্বীনি শিক্ষা অর্জন ও হক্কানি আলেমদের সংস্পর্শে থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। ভুল আকিদা থেকে বেঁচে থাকাই একজন মুমিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

banner
Link copied!