গবেষকরা সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখিয়েছেন যে সূর্যাস্ত দেখার উপকারিতা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, বিবিসি নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সামাজিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক মিশেল শিওটা এই বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে প্রকৃতির এই বিশাল এবং গভীর রূপ মানুষের মনে এক ধরনের বিস্ময় বা চমৎকার অনুভূতির সৃষ্টি করে যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। এই বিশেষ অনুভূতি মানুষের ভেতরের তৈরি হওয়া নেতিবাচক চিন্তার অবিরত চক্রকে ভেঙে দিতে এবং মানুষকে বর্তমান সময়ে ফিরিয়ে আনতে সরাসরি সাহায্য করে।
কানাডার টরন্টো ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞান গবেষক জেনিফার স্টেলার এই বিষয়ের সাথে একমত পোষণ করে জানিয়েছেন যে সূর্যাস্ত অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রাকৃতিক দৃশ্য যা মানুষের মনকে নিমেষেই শান্ত করতে পারে। আকাশ সাধারণত দিনের অন্য সময়ে যেমন দেখায় তার চেয়ে এই গোধূলি লগ্নে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয় যা মানুষের চোখ ও মনকে এক জায়গায় স্থির করে ফেলে। দুই হাজার তেইশ সালে প্রায় দুই হাজার পাঁচশত মানুষের ওপর পরিচালিত একটি বিশেষ বৈজ্ঞানিক জরিপে দেখা গেছে যে মানুষ প্রকৃতির প্যানোরামিক বা বিস্তৃত দৃশ্য দেখে সবচেয়ে বেশি অভিভূত ও অনুপ্রাণিত হয়। এই বিস্ময়ের গভীর অনুভূতি মানুষের মন থেকে অহংকার এবং নিজের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলোকে অনেক ছোট ও তুচ্ছ হিসেবে দেখতে শেখায় যা মানসিক প্রশান্তি অর্জনে বড় সাহায্য করে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো মানুষের মস্তিষ্কের গঠন ও স্নায়ুতন্ত্রের ভেতরে ঠিক কী ধরনের সুনির্দিষ্ট পরিবর্তনের কারণে এই ধরনের বিস্ময়কর প্রভাব তৈরি হয় তা চিকিৎসকরা এখনো পুরোপুরি উদ্ঘাটন করতে পারেননি। তবে গবেষকরা দৃঢ়ভাবে ধারণা করছেন যে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য মানুষের মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে নিজের দিকে কেড়ে নেয় বলেই মানুষ ক্ষণিকের জন্য হলেও অতীত বা ভবিষ্যতের সব দুশ্চিন্তা ভুলে যায়। অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি বিশেষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের তিনটি আলাদা চলচ্চিত্র দেখানো হয়েছিল যার মধ্যে একটি ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর এক বিজ্ঞানভিত্তিক চলচ্চিত্র। সেই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে যে যারা প্রকৃতির ওই চমৎকার দৃশ্য দেখেছিলেন তাদের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তথ্য হুবহু মনে রাখার ক্ষমতা অন্য সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ছিল।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন যে বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল যুগে মানুষ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের পারিবারিক ও পেশাগত মানসিক চাপ এবং তীব্র দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। এমন জটিল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন নিয়ম করে কিছু সময়ের জন্য সূর্যাস্ত দেখার উপকারিতা গ্রহণ করলে তা মানুষের বিষণ্ণতা, একাকীত্ব ও তীব্র মানসিক উদ্বেগ দূর করতে এক দারুণ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রকৃতির এই নিয়মিত ও সহজলভ্য উপাদানটি মানুষের মধ্যে पारस्परिक সহানুভূতিশীল আচরণ এবং সেবামূলক কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াতেও বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করে। এটি মানুষের রাতের ঘুমের মান বহুলাংশে উন্নত করতে, সৃজনশীল চিন্তা করতে এবং মানুষের মেজাজ ফুরফুরে রাখতে সমানভাবে কার্যকর বলে আন্তর্জাতিক গবেষকরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন।
