যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপনের বিখ্যাত স্থান বালমোরাল ক্যাসেলের কথা অনেকেই জানেন, কিন্তু দক্ষিণ স্কটল্যান্ডের একটি উপেক্ষিত কোণে অবস্থিত ডামফ্রিস হাউস নামের অন্য একটি ঐতিহাসিক এস্টেট সম্পর্কে খুব কম মানুষই অবগত আছেন। বিবিসি নিউজ এবং গেটি ইমেজেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ঐতিহাসিক এস্টেটটি একসময় নিলামে বিক্রি হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। মারকুইস অফ বিউট এস্টেটটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এর অমূল্য আসবাবপত্র ও ঐতিহাসিক সংগ্রহ লন্ডনে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছিল।
ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে তৎকালীন প্রিন্স অফ ওয়েলস এবং বর্তমান রাজা তৃতীয় চার্লস এগিয়ে আসেন এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এস্টেটটিকে জাতির জন্য সংরক্ষণ করেন। সে সময় রাজা চার্লস জানিয়েছিলেন যে একটি অমূল্য জাতীয় ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তাদের অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কেবল একটি ঐতিহাসিক ভবন বা এর সংগ্রহ রক্ষা করাই নয়, বরং গত দুই দশকে এই এস্টেটটি দ্য কিংস ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পুনরুজ্জীবন ও ব্যবহারিক শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে দর্শনার্থীরা এই ঐতিহাসিক এস্টেট ঘুরে দেখার পাশাপাশি এর বিশাল বাগান ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী উপভোগ করতে পারেন। ১৭৫৯ সালে উইলিয়াম ডালরিম্পল-ক্রিটন নামের এক অভিজাত ব্যক্তির জন্য নির্মিত এই ভবনের নকশা করেছিলেন বিশিষ্ট স্কটিশ স্থপতি রবার্ট এবং জন অ্যাডাম। ভবনের অভ্যন্তরে টমাস চিপেন্ডেলের তৈরি করা অসংখ্য অমূল্য আসবাবপত্র এবং ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম সংরক্ষিত রয়েছে, যা পরিদর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করে। স্থানীয় গাইডের তথ্যমতে, এই ভবনের সিটিং রুমেই বহু মূল্যবান প্রাচীন আসবাবপত্র ও ঐতিহাসিক ঘড়ি রয়েছে যা এই এস্টেটের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
ভবন এবং এর সংলগ্ন বিশাল বাগান ছাড়াও ডামফ্রিস হাউসের মূল আকর্ষণ হলো এর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প পুনরুদ্ধার, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে পুনরুজ্জীবিত করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের অংশ হিসেবে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী এই এস্টেট থেকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। রাজা চার্লসের প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটেছে এই উদ্যোগে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হিসেবে কাজ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
