সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

মস্তিস্কের বয়স ধরে রাখার ৩টি সহজ ও কার্যকর উপায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১১, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

মস্তিস্কের বয়স ধরে রাখার ৩টি সহজ ও কার্যকর উপায়

মানুষের শরীর সময়ের সাথে বুড়ো হলেও মস্তিষ্ককে তরুণ রাখার চাবিকাঠি আমাদের হাতেই রয়েছে। গবেষকদের মতে, মস্তিষ্ক যখন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তখনই এটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। তবে এই চ্যালেঞ্জ মানেই যে কঠিন পরিশ্রম, তা কিন্তু নয়। দৈনন্দিন জীবনের কিছু আনন্দদায়ক অভ্যাসের মাধ্যমেই আমরা আমাদের মস্তিষ্কের বার্ধক্য কমিয়ে আনতে পারি। গবেষকরা একে বলছেন ‘কগনিটিভ রিজার্ভ’ বা মানসিক সুরক্ষা কবচ তৈরি করা। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের এডিনবার্গ এবং লন্ডনের বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে তিনটি অত্যন্ত কার্যকর ও উপভোগ্য কৌশলের কথা সামনে এনেছেন।

প্রথম কৌশলটি হলো ‘স্পেশাল নেভিগেশন’ বা পথ চিনে চলার ক্ষমতা। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজের নিউরোলজিস্ট ডক্টর ডেনিস চ্যান জানান যে, আলঝেইমার রোগ সাধারণত মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ অংশকে প্রথমে আক্রান্ত করে। এই অংশটিই আমাদের পথ চিনতে সাহায্য করে। ডক্টর চ্যান বলেন, আলঝেইমারের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে মানুষ প্রায়ই পথ হারিয়ে ফেলে। যারা জিপিএস বা ম্যাপের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে নিজের স্মৃতি ব্যবহার করে পথ চলেন, তাদের হিপোক্যাম্পাস অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। লন্ডন বা বিভিন্ন বড় শহরের ট্যাক্সি চালকদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, বছরের পর বছর মানচিত্র ছাড়া পথ চেনার কারণে তাদের মস্তিষ্কের এই অংশটি অন্যদের তুলনায় বড় ও কর্মক্ষম।

প্রযুক্তির যুগে আমরা সব সময় জিপিএস বা গুগল ম্যাপের ওপর নির্ভর করি। এটি আমাদের মস্তিষ্ককে অলস করে দিচ্ছে। গবেষকদের পরামর্শ হলো, পরিচিত পথে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন পকেটে রাখুন। পথ চেনার এই ক্ষুদ্র চেষ্টা মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অংশের সংকোচন রোধ করে। এমনকি শিশুদের ব্লক বা ঘর তৈরির খেলা এবং বড়দের জন্য ওরিয়েন্টিয়ারিংয়ের মতো খেলাগুলোও মস্তিষ্কের গঠন ধরে রাখতে সাহায্য করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত চার মাস ধরে পথ চেনার বা নেভিগেশনের চর্চা করেছেন, তাদের মস্তিষ্কে বার্ধক্যজনিত কোনো পরিবর্তন ধরা পড়েনি।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপায়টি হলো সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা। এডিনবার্গ হারিয়ট-ওয়াট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী অ্যালান গো মনে করেন, মানুষের সাথে মেলামেশা মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা জীবনের মধ্যবয়সে নিয়মিত সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন, বৃদ্ধ বয়সে তাদের স্মৃতিশক্তি অন্যদের চেয়ে অনেক ভালো থাকে। যারা ১০০ বছর বা তার বেশি সময় সুস্থভাবে বেঁচে আছেন, তাদের জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সামাজিক সক্রিয়তা। মানুষের সাথে অর্থপূর্ণ আলাপচারিতা এবং বন্ধুত্বের সম্পর্ক মস্তিষ্ককে এক ধরনের ‘স্কাফোল্ডিং’ বা শক্তিশালী কাঠামো দান করে, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

তৃতীয় বিষয়টি হলো নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা। গবেষকদের মতে, যে কাজগুলো আমাদের মস্তিষ্কে কিছুটা বাড়তি চাপ দেয়, সেগুলোই দীর্ঘমেয়াদে উপকারী। এটি হতে পারে নতুন কোনো ভাষা শেখা বা কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো। আধুনিক বিশ্বে মানুষের ‘হেলদি লাইফস্প্যান’ বা সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় কমছে। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার চেয়ে বড় কথা হলো সুস্থভাবে বেঁচে থাকা। ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন যেমন—ফোনের ম্যাপ ব্যবহার কমিয়ে দেওয়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া এবং নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে আমরা আমাদের মস্তিষ্কের তারুণ্য ধরে রাখতে পারি। এতে শুধু আলঝেইমার নয়, বরং বার্ধক্যজনিত অনেক মানসিক সমস্যা থেকেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

banner
Link copied!