দক্ষিণী সিনেমার মেগাস্টার ও তামিলনাড়ুর উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা থালাপতি বিজয় এবং তার দল `টিভিকে`-কে কেন্দ্র করে এক নতুন সামাজিক ও আইনি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট পর্দার পরিচিত মুখ ও সাবেক নার্স জুলি গুরুতর অভিযোগ করেছেন যে বিজয়ের অন্ধ সমর্থকদের লাগামহীন সাইবার বুলিং এবং কুরুচিপূর্ণ অনলাইন ট্রোলিংয়ের কারণে তিনি গর্ভপাতের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জুলি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার জীবনের এই মর্মান্তিক অধ্যায়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, বিয়ের পর প্রথম সন্তানের জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন, কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনবরত ছড়ানো নোংরা অপপ্রচার তাদের ব্যক্তিগত জীবন বিষিয়ে তোলে।মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি তার অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন।
জুলি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার অনাগত সন্তান হারানোর জন্য অভিনেতা বিজয় আন্নাই দায়ী। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে বিজয় ব্যক্তিগতভাবে বা সরাসরি এই নোংরা প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত নন। অভিনেত্রীর মূল অভিযোগ হলো, নিজের অনুসারীদের এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণ ও সাইবার হয়রানির কথা জানা সত্ত্বেও তা বন্ধ করতে বিজয় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। নেতার এই দীর্ঘ নীরবতাই সমর্থকদের আরও বেশি উসকে দিয়েছে এবং তাদের অন্যায় আচরণকে এক প্রকার মৌন স্বীকৃতি দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এর আগে গত মার্চ মাসে এই তীব্র হয়রানির বিরুদ্ধে আটজনের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জুলি। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে না দেখে দেওয়ানি মানহানির মামলা হিসেবে গণ্য করে, যার ফলে হয়রানি বন্ধ হয়নি। এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন তার বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকার একটি ভুয়া ও পরিকল্পিত কিডনি কেলেঙ্কারির প্রোপাগান্ডা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো শুরু হয়।
জুলির মতে, সমর্থকদের উচিত সাইবার সন্ত্রাস না চালিয়ে তাদের প্রিয় নেতার রাজনৈতিক আদর্শ মেনে জনগণের সেবায় মনোযোগ দেওয়া। এই অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে থালাপতি বিজয় কিংবা তার দল টিভিকে-র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
