রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

ইউরোভিশনে ইসরায়েল বিতর্ক: ভিয়েনায় উৎসবের আড়ালে ক্ষোভ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ১০, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

ইউরোভিশনে ইসরায়েল বিতর্ক: ভিয়েনায় উৎসবের আড়ালে ক্ষোভ

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ২০২৬ ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ভিয়েনার রাস্তায় ৩৫টি দেশের প্রতিযোগীদের নিয়ে ‘টারকয়েজ কার্পেট’ প্যারেড আয়োজনের কথা থাকলেও পুরো আয়োজনটি এখন ইসরায়েলের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে। ইসরায়েলের উপস্থিতির প্রতিবাদে প্রতিযোগিতার নিয়মিত ও প্রভাবশালী পাঁচটি দেশ এবারের আসর বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছে।

নিবন্ধিত তথ্যানুযায়ী এবারের ইউরোভিশন বর্জনকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, আইসল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়া। বিশেষ করে সাতবারের বিজয়ী আয়ারল্যান্ড এবং প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান আর্থিক পৃষ্ঠপোষক স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ইউরোভিশন কর্তৃপক্ষের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছরের নভেম্বরে একটি সভায় বেশ কয়েকটি দেশ ইসরায়েলকে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখার প্রস্তাব দিলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপরই দেশগুলো এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদের মূলে রয়েছে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযান। হামাসের হামলার জবাবে শুরু হওয়া এই অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ৬২৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে কিন্তু এর আগে ২০২৪ সালের মালমো এবং ২০২৫ সালের বাসেল আসরেও ইসরায়েলি প্রতিযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।

গত বছরের আসরে ইসরায়েলি প্রতিযোগী ইউভাল রাফায়েল জনমতের ভোটে আশ্চর্যজনকভাবে শীর্ষে অবস্থান করায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। অভিযোগ রয়েছে যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির সরকারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলো থেকে পরিকল্পিতভাবে ভোট দেওয়ার জন্য অনুসারীদের উৎসাহিত করা হয়েছিল। কোনো দেশের সরকারের পক্ষ থেকে গান প্রতিযোগিতার ভোটে এমন হস্তক্ষেপকে নজিরবিহীন এবং অনৈতিক হিসেবে দেখছে অনেক দেশ। গত আসরে রাফায়েল সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় স্থান লাভ করলেও মঞ্চে থাকা অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা পারফরম্যান্সের সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।

ইউরোভিশনের মতো একটি সাংস্কৃতিক উৎসব এখন রাজনৈতিক মেরুকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভক্তদের বড় একটি অংশ এই আয়োজনকে আনন্দ হিসেবে নিলেও ইসরায়েল ইস্যু তাদের দ্বিধাবিভক্ত করে ফেলেছে। আয়োজক সংস্থা ইউরোপিয়ান ব্রডকাস্টিং ইউনিয়ন (ইবিইউ) প্রতিযোগিতাকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ রাখার দাবি করলেও বর্জনকারী দেশগুলোর দাবি একটি দখলদার ও আগ্রাসী রাষ্ট্রকে এমন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভিয়েনায় কড়া নিরাপত্তার চাদরে উৎসব শুরু হলেও মাঠপর্যায়ের উত্তাপ ইউরোভিশনের দীর্ঘ ৭০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

banner
Link copied!