গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৫৫ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের উদ্ধারকারী দল, শনিবার আল জাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে। গাজা সিটির জেইতুন এলাকার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনে বিগত তিন দিন ধরে টানা সন্ধান অভিযান চালিয়ে এই অবশেষ উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দলের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া এই ব্যক্তিরা সবাই স্থানীয় মালকা পরিবারের সদস্য, যারা দুই হাজার তেইশ সালের উনিশে নভেম্বর একটি ভয়াবহ ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিজেদের বাসভবনেই নিহত হয়েছিলেন।
ভারী উদ্ধার সরঞ্জামের চরম ঘাটতির মধ্যেও উদ্ধারকর্মীরা মূলত খালি হাতে ও সাধারণ যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই খনন কাজ পরিচালনা করেছেন। উদ্ধারকারী দলের তত্ত্বাবধায়ক কর্নেল মুহাম্মদ আবু দান জানিয়েছেন যে বিগত বাহাত্তর ঘণ্টা ধরে তারা মালকা পরিবারের নিখোঁজ ষাট জনেরও বেশি মানুষের সন্ধানে ধ্বংসাবশেষ সরিয়েছেন। হামলার সময় স্থানচ্যুত হয়ে বহু আত্মীয়-স্বজন একসঙ্গে ওই ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা নিশ্চিত করেছে।
কংক্রিটের স্তূপ সরাতে প্রয়োজনীয় ভারী বুলডোজার ও ক্রেনের সংকটের কারণে পুরো গাজা উপত্যকাজুড়ে উদ্ধার তৎপরতা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে।
জাতিসংঘের স্যাটেলাইট সেন্টারের মূল্যায়নে দেখা গেছে যে অঞ্চলটিতে চলমান সামরিক আগ্রাসনে প্রায় বিরাশি শতাংশ ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস বা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, উপত্যকাজুড়ে এখনো দশ থেকে চৌদ্দ হাজার মানুষ বিভিন্ন ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ অবস্থায় চাপা পড়ে রয়েছেন। উদ্ধার দলগুলোর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক উদ্ধার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের দেহাবশেষ উদ্ধার সম্পন্ন হওয়ায় আগামী সপ্তাহের শেষভাগে তাদের জন্য সম্মিলিত জানাজা ও শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতেও সীমিত সক্ষমতা নিয়ে নিবিড় তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
