বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

পূর্ব জেরুজালেম ক্যাবল কার

বিতর্কিত জেরুজালেম ক্যাবল কার প্রকল্প: পঞ্চম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পিছু হঠা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১১:০০ এএম

বিতর্কিত জেরুজালেম ক্যাবল কার প্রকল্প: পঞ্চম বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পিছু হঠা

পশ্চিম জেরুজালেমকে পূর্ব জেরুজালেমের সঙ্গে সংযুক্ত করার একটি বিতর্কিত ক্যাবল কার নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে পঞ্চম আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও সরে দাঁড়িয়েছে। এই প্রস্তাবিত রুটটি বাস্তবায়িত হলে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি পরিবারের জমি ও সম্পত্তির অধিকার জবরদখল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হবে।

গত চার বছর ধরে প্রকল্পটি প্রায় স্থবির অবস্থায় ছিল, যা গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে হঠাৎ গতি পায়। গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে জেরুজালেম ডেভেলপমেন্ট অথরিটি কোনো উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই ইতালির দক্ষিণ টাইরলভিত্তিক ক্যাবল কার প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রোপসকে কাজটি দেওয়ার জন্য আশপত্র জারি করেছিল।

রোপসের প্রধান নির্বাহী স্টেফান ওবেক্সার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ভারতের অন্য একটি কাজের ব্যস্ততার কারণে তাদের কোম্পানি এই পরামর্শক পদের কাজটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অবস্থান নিয়ে আইনি কোনো জটিলতা বা উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রোপস কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি এবং জেরুজালেম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

ইসরায়েলি সরকার ২০১৯ সালে ১ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ক্যাবল কার রুটের অনুমোদন দেয় এবং ২০২২ সালে উচ্চ আদালত তা বহাল রাখে। এই ব্যবস্থাটি পশ্চিম জেরুজালেমকে একটি পরিকল্পিত ১৬ হাজার বর্গমিটারের পর্যটন কমপ্লেক্সের সঙ্গে যুক্ত করবে, যার পেছনে রয়েছে এলাদ নামের একটি বসতি স্থাপনকারী সংস্থা। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি এলাকায় ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করাই এই সংস্থার মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে এবং ১৯৮০ সালে পূর্ব জেরুজালেম ও পুরনো শহরকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে বিবেচিত হয়।

রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এর আগে অন্তত আরও চারটি বিদেশি কোম্পানি এই প্রকল্প থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল, যার মধ্যে ফ্রান্সের তিনটি এবং সুইজারল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফরাসি সরকার ২০১৫ সালেই একটি ফার্মকে এই প্রকল্পে অংশ না নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ফরাসি কোম্পানি সিএনএ প্রায় এক বছর আগে সরে দাঁড়ায় এবং পরবর্তীতে সুইজারল্যান্ডের হিসটেক ইঞ্জিনিয়ারিংও একই পথ অনুসরণ করে।

এসব প্রতিষ্ঠানের একের পর এক প্রত্যাহারের পরও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলছে যে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত গতিতেই এগিয়ে চলছে। জেরুজালেম ডেভেলপমেন্ট অথরিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে উচ্চ আদালতে ফিলিস্তিনিদের করা রিট খারিজ হওয়ার পর পূর্ব পরিকল্পনা ও সময়সূচি অনুসারেই কাজ চলছে। ওই মুখপাত্র আরও যোগ করেন যে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো বাধ্যতামূলক দরপত্র আইনের আওতাধীন এবং আগামী মাসগুলোতে এ সংক্রান্ত দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে।

ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় এবং ঐতিহ্য রক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গোষ্ঠী এই উন্নয়নের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। এমেক শাভেহ নামের সংস্থাটি জানিয়েছে যে এই প্রকল্প ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় এবং জেরুজালেমের ঐতিহাসিক কেন্দ্রবিন্দুর জন্য মারাত্মক হুমকি। এই সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও প্রত্নতাত্ত্বিক আলোন আরাদ বলেছেন যে প্রকল্পটি পুরনো শহরের আশপাশে কোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণ না করার ঐতিহাসিক নীতির পরিপন্থী। আরাদ আরও উল্লেখ করেন যে ইসরায়েল নেচার অ্যান্ড পার্কস অথরিটি এই প্রকল্পের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে।

অন্যদিকে ইসরায়েল নেচার অ্যান্ড পার্কস অথরিটি জানিয়েছে যে তাদের সম্পৃক্ততা কেবল প্রস্তাবিত বিকল্পগুলোর ওপর মতামত প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এলাদ ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

ইসরায়েলি পরিকল্পনা অধিকার সংস্থা বিমকোমের পূর্ব জেরুজালেম বিভাগের পরিচালক ও স্থপতি সারি ক্রনিশ জানিয়েছেন যে প্রস্তাবিত এই রুটের ঠিক নিচেই প্রায় ৪৫০ জন বাসিন্দার বসতি রয়েছে। ক্রনিশ ব্যাখ্যা করে বলেন যে ক্যাবল কারগুলো মানুষের ছাদ এবং আবাসিক জানালার মাত্র চার মিটার ওপর দিয়ে চলাচল করবে। ইতিমধ্যে সহায়ক স্তম্ভ নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়ে গেছে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

banner
Link copied!