বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

ফরাসি কাতারি বৈঠক

গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান কাতার ও ফ্রান্সের

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : অক্টোবর ২২, ২০২৬, ০৬:০০ এএম

গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান কাতার ও ফ্রান্সের

গাজা উপত্যকা থেকে সম্পূর্ণ ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে কাতার ও ফ্রান্স। গত মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই বিবৃতি আসে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের বৃহত্তর সফরের অংশ হিসেবে কাতারের রাজধানী সফর করেন ফরাসি এই নেতা।

অকুপাইড পশ্চিম তীরের যেকোনো ধরনের সংযুক্তিকরণ প্রত্যাখ্যান করেছে দুই দেশ। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং সেটেলারদের সহিংসতার অবিলম্বে অবসান দাবি করেন দুই নেতা।

গাজায় একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয় যৌথ বিবৃতিতে। এর মধ্যে সেনা প্রত্যাহার এবং কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই দ্রুত ও নিরাপদ উপায়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকতে হবে।

ফিলিস্তিনি নির্বাচন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি নিজেদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে দোহা ও প্যারিস। বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আঞ্চলিক সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেন।

ইরানের বিষয়ে কাতার ও ফ্রান্স আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের ওপর সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ রাখতে দেশটির প্রতি কূটনীতির পথ অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।

হরমোজ প্রণালী দিয়ে বাধাহীন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছে দুই দেশ। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে ফ্রান্স।

লেবানন প্রসঙ্গে ত্রিপক্ষীয় কাঠামোগো চুক্তি বাস্তবায়নকে সমর্থন জানান দুই নেতা। এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, পূর্ণ ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করা।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সম্ভাব্য নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

সিরিয়া প্রসঙ্গে দুই সরকারই দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার উদ্যোগে সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। আঞ্চলিক কূটনীতির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে একমত হয়েছে কাতার ও ফ্রান্স।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর এই সফরে কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরবও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং সমুদ্রপথে চলাচল নিশ্চিত করাই ছিল এসব সফরের মূল লক্ষ্য।

banner
Link copied!