রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

গাজায় তাঁবুতে আগুন

অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুর মৃত্যু: গাজায় মানবেতর পরিস্থিতিতে বাড়ছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : নভেম্বর ১, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুর মৃত্যু: গাজায় মানবেতর পরিস্থিতিতে বাড়ছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

গত শুক্রবার বিকেলে খান ইউনিসের পশ্চিমাঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবুতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে গত শনিবার নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়।

নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসকেরা নিহত শিশুদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের একজন দুই মাস বয়সী হাবিবা মোহাম্মদ জানুন এবং অন্যজন সাত মাসের শিশু আসিল আবু সুহাইবান। অত্যন্ত গুরুতর দগ্ধ হওয়ায় দুজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল।

তাঁবুর ভেতরে রান্নার কাজ করার সময় হঠাৎ করেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ইসরায়েলি অবরোধের কারণে রান্নার গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকট চলছে। এর ফলে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো খোলা আগুনে খাবার প্রস্তুত করতে বাধ্য হচ্ছে।

নিহত শিশুদের এক দাদি জানান, ঘটনার সময় তার মেয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। হাবিবা ছিল তার মেয়ের সন্তান। যে দিন শিশুটির দুই মাসের টিকা নেওয়ার কথা ছিল, ঠিক সেই দিনই সে মৃত্যুবরণ করে।

আসিলের মা তার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য জ্বলন্ত আগুনে ছুটে গেলে নিজেও দগ্ধ হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত দুই শিশুর কেউই গুরুতর জখম থেকে রক্ষা পায়নি।

ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই দাদি বলেন, আমাদের ওপর কেন এমন নির্যাতন নেমে আসছে। প্রতিদিন হামলা, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটছে এবং নানাভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে পরিবারগুলোকে বাস্তুচ্যুতি, যন্ত্রণা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে।

গত শুক্রবার মধ্য ও দক্ষিণ গাজায় বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে এ রকম আরও দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে মানুষ দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি জনবহুল আশ্রয়শিবিরের ভেতরেই বিকল্প উপায়ে আগুন জ্বালাতে বাধ্য হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় বা ওচা গত জুন মাসে সতর্ক করে জানিয়েছিল যে তাঁবুর ভেতরে রান্না করা অগ্নিকাণ্ডের একটি প্রধান কারণ। আশ্রয়শিবির মজবুত করতে ব্যবহার করা কম্বল, পুরোনো কাপড়, পিচবোর্ড ও প্লাস্টিকের শিটের কারণে আগুন খুব দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

ওচার তথ্য অনুযায়ী, মিসরীয় সীমান্ত করিডোর দিয়ে আসার অনুমতি পাওয়া একটি ত্রাণবাহী চালান গত ২৬ আগস্ট ও গত ২ সেপ্টেম্বর আটকে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ওই চালানে ৩৬ হাজার ৯৬০ টুকরা কাঠ ও ৬৬০টি জরুরি আশ্রয়সামগ্রীর কিট ছিল।

গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এর আগে জানিয়েছে যে আট লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি এমন তাঁবুতে বসবাস করছেন, যা মানুষের বসবাসের উপযোগী নয়। আনুমানিক দুই লাখ ৭০ হাজার তাঁবুর মধ্যে ১ লাখ ৬২ হাজার তাঁবুর তাৎক্ষণিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

শোকার্ত দাদি গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্দশার প্রতি দৃষ্টি দিতে এবং তাদের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

banner
Link copied!